Joy Jugantor | online newspaper

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও দেশে স্থিতিশীলতায় ৯ দফা প্রস্তাবনা দিলো জামায়াত

প্রকাশিত: ১৮:২২, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ১৮:২৩, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও দেশে স্থিতিশীলতায় ৯ দফা প্রস্তাবনা দিলো জামায়াত

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও দেশে স্থিতিশীলতায় ৯ দফা প্রস্তাবনা দিলো জামায়াত

দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ৯ দফা প্রস্তাবনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগরী আমীর সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে এসব প্রস্তাব গৃহীত হয়।সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে সকলকে সাথে নিয়ে জাতীয় সংকট মোকাবিলা করার আহ্বান জানান।জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এই হতাশা দূর করতে দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানান তারা। একইসঙ্গে ‘জুলাই সনদ’-এর ধারাগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা এবং জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়।জ্বালানি সংকট দেশের শিল্প ও কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে সম্মেলনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়।

সেগুলো হলো দেশীয় গ্যাস ও কয়লা উত্তোলনে গুরুত্ব দেওয়া। নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাত আধুনিকায়ন। টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ। কৃষিতে সার সংকট নিরসন ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয়করণের প্রভাব থেকে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে দলটি। সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও দখলবাজি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় জামায়াত।

এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংস্কার এবং অর্থ লোপাটকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে পরিবেশ তৈরি করার দাবি জানায় দলটি।স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা জোরদার করার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সরকারকে একা নয়, বরং সকল অংশীজনকে সাথে নিয়ে সংকট মোকাবিলা করতে হবে। জুলাই সনদ ও সকল অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।” সম্মেলনে দেশের জেলা ও মহানগরী পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।