Joy Jugantor | online newspaper

৬ টাকার বিদ্যুৎ খরচে ১৪০ কিঃমিঃ যাতায়াত করেন কান্টু মিয়া

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:২৬, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

৬ টাকার বিদ্যুৎ খরচে ১৪০ কিঃমিঃ যাতায়াত করেন কান্টু মিয়া

৬ টাকার বিদ্যুৎ খরচে ১৪০ কিঃমিঃ যাতায়াত করেন কান্টু মিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন আর সীমাহীন ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র। এক লিটার তেলের জন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তখন বগুড়া সারিয়াকান্দির আনোয়ার হোসেন (কান্টু) মিয়া দেখাচ্ছেন এক আশার আলো। পেট্রল বা মবিল ছাড়াই মাত্র ৬ টাকার বিদ্যুৎ খরচে তার মোটরসাইকেল প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পথ ছুটছে । বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারতিতপরল গ্রামের মৃত সোবাহান আলী আকন্দের ছেলে আনোয়ার হোসেন (কান্টু) । পেশা জীবন শুরুর দিকে সে সাইকেল একজন মেকানিক ছিলো। বর্তমানে থানা রোডে তার একটি সাইকেল, রিকশা ও অটোরিকশার যন্ত্রাংশের দোকান এবং গ্যারেজ রয়েছে। ২০১০ সালে দোকানে যাতায়াত সহজ করার জন্য একটি পুরাতন ১০০ সিসির সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন তিনি।

কিন্তু কেনার পর থেকেই শুরু হয় বিপত্তি। যান্ত্রিক ত্রুটি আর তেলের উচ্চমূল্যে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। স্থানীয় মেকানিকরা বারবার চেষ্টা করেও বাইকটি পুরোপুরি সচল করতে পারছিলেন না। তেলের খরচ আর মেরামতের বিরক্তি থেকে মুক্তি পেতে কান্টু এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঠিক করেন বাইকের ইঞ্জিনই ফেলে দেবেন। বাইকের ইঞ্জিন সরিয়ে সেখানে স্থাপন করেন ১২ ভোল্টের ৪টি ব্যাটারি এবং একটি অটোরিকশার শক্তিশালী মোটর। ব্যাটারির সঙ্গে মোটরের সংযোগ ঘটিয়ে তিনি বাইকটিকে রূপান্তরিত করেন বৈদ্যুতিক মটর যানে।আনোয়ার হোসেন কান্টু বলেন, শুরুতে যখন ব্যাটারি লাগিয়ে বাইক চালানো শুরু করি, তখন অনেকেই হাসাহাসি করেছে। ঠাট্টা-তামাশা করে বলেছে এটা নাকি খেলনা! কিন্তু আমি দমে যাইনি।

এখন তেলের অভাবে যখন মানুষ পাম্পে লাইন দিচ্ছে, তখন তারাই আমাকে বাহবা দিচ্ছে। তৈরী করতে কি রকম খরচ হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন নতুন ব্যাটারী দিয়ে করলে ৪০ হাজার টাকা খরচ হবে পুরানো দিয়ে করলে ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। কান্টুর এ উদ্ভাবনে সাশ্রয়ের হিসাবটা অবিশ্বাস্য। যেখানে দেড়শো কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তেল চালিত বাইকে প্রায় ৪৫০ টাকা খরচ হয়, সেখানে কান্টুর খরচ হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকার বিদ্যুৎ। পাম্পে গিয়ে তেল কেনার ভোগান্তি নেই, নেই মবিল পরিবর্তনের বাড়তি ঝামেলা।কান্টুর প্রতিবেশী রন্জু মিয়া বলেন, কান্টুর এ বাইক বর্তমান সংকটে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তেল কিনতে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যুদ্ধ করতে হয়। অথচ কান্টু অনায়াসে চলাফেরা করছেন। খরচও নামমাত্র। আমি নিজেও এখন আমার বাইকটিতে ব্যাটারি লাগানোর কথা ভাবছি।