বগুড়ায় মুনলাইটের উদ্যোগে প্রবীণ ভাতা, শিক্ষাবৃত্তি ও সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ , কারও মুখে স্বস্তির হাসি, কা
এক হাতে বয়সের ভার, অন্য হাতে জীবনের শেষ প্রান্তে টিকে থাকার লড়াই। কারও আবার চোখে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন, কিন্তু অর্থের অভাবে সেই স্বপ্ন থমকে যাওয়ার শঙ্কা। আর কেউ চান নিজের ছোট্ট ব্যবসাটিকে একটু বড় করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। মানুষের প্রয়োজনের এই ভিন্ন গল্পগুলোকে এক সুতোয় বেঁধেছে মানবিকতার একটি উদ্যোগ। বগুড়ায় মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে অসহায় প্রবীণদের জন্য প্রবীণ ভাতা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি এবং স্বাবলম্বী হতে আগ্রহী মানুষের জন্য সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে বগুড়া শহরের শেরপুর রোডে মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির হেড অফিসে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা বগুড়া শহর সমাজসেবা অফিসার মো. নুরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন মুনলাইটের প্রবীণ ভাতা, শিক্ষাবৃত্তি ও সুদমুক্ত ঋণ কর্মসূচির কো-অর্ডিনেটর মোরশেদা বেগম আইভি। এ সময় বক্তব্য রাখেন মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সহ-সম্পাদক ওয়ালিউল ইসলাম বিটুল, নির্বাহী সদস্য মঞ্জুরুল হক টুটু। সমাজসেবা বগুড়া শহর সমাজসেবা অফিসার মো. নুরুল ইসলাম বলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, সমাজের সক্ষম মানুষেরও নৈতিক দায়িত্ব। প্রবীণদের সম্মান দেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়া এবং মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়াÑসবই মানবিক সমাজ গঠনের অংশ। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলো মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে কাজ করলে সমাজের অনেক মানুষের জীবনেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
মুনলাইটের কর্মসূচি সমন্বয়কারী মোরশেদা বেগম আইভি বলেন, আমাদের কাছে সেবা মানে শুধু কাউকে কিছু দেওয়া নয়। আমরা চাই, সহযোগিতার মাধ্যমে একজন মানুষ যেন নিজের জীবনে একটু স্বস্তি পান, একজন শিক্ষার্থী যেন তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন এবং একজন উদ্যোক্তা যেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পান। মুনলাইটের সহ-সম্পাদক ওয়ালিউল ইসলাম বিটুল বলেন, একজন প্রবীণের মুখের হাসি, একজন শিক্ষার্থীর চোখের স্বপ্ন কিংবা একটি পরিবারের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পÑএসবই আমাদের কাজের অনুপ্রেরণা। মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নির্বাহী সদস্য মঞ্জুরুল হক টুটু বলেন, মুনলাইট কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়।
মানুষের সেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সমাজের অসহায় মানুষের জীবনকে একটু সহজ করাই আমাদের চেষ্টা। অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সালেহা আহমেদ। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনের সময়ে কেউ পাশে দাঁড়ালে সেই সহযোগিতার মূল্য অনেক বেশি। এই সহায়তা আমাদের মতো মানুষের মনে সাহস জোগায়Ñআমরা একা নই। শিক্ষার্থীদের পক্ষে শহীদ আহমেদ বলেন, শিক্ষাবৃত্তি আমাদের পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেবে। আমরা ভালোভাবে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। অনুষ্ঠানে ৬৩ জন প্রবীণকে প্রবীণ ভাতা, ৩৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘ল্যাব-৮৩’ শিক্ষাবৃত্তি এবং ১৭ জন উদ্যোক্তাকে ব্যবসা পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। আয়োজকদের ভাষায়, এই সহায়তার অঙ্ক হয়তো খুব বড় নয়; কিন্তু কারও কাছে এটি ওষুধ কেনার ভরসা, কারও কাছে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সাহস, আবার কারও কাছে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পুঁজি। আর সেখানেই মুনলাইটের এই আয়োজন হয়ে ওঠে শুধু অর্থ সহায়তার নয়Ñমানবিকতার এক উজ্জ্বল গল্প।
