বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও কাহালু দুই উপজেলার উন্নয়নে গতি, বদলেছে গ্রামীণ জনপদ
বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনে বগুড়ার দুটি উপজেলার শিক্ষাখাত, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকান্ডে বদলেছে দীর্ঘ বঞ্চনার জনপদ। নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, সড়ক নির্মাণ, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ, খাল খননসহ একাধিক প্রকল্পের কাজ চলমান। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে এটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রাপ্ততথ্যে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন। বিশেষ কর্মপরিকল্পনায় দুই উপজেলার শিক্ষাখাতে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। ইতোমধ্যে বাজেট অনুযায়ী প্রকল্পের আওতায় দুই উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরও সাতটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রতিটি একাডেমিক ভবন নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানগুলো- নন্দীগ্রাম উপজেলার চাকলমা উচ্চ বিদ্যালয়, ভাটরা খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, ধুন্দার হাইস্কুল এন্ড কলেজ, কাহালু উপজেলার আজিজুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ, জামগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, উচল বাড়িয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, কালাই রাজবাটী দাখিল মাদ্রাসা।
এছাড়া ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিটি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মেরামত সংস্কারে বরাদ্দ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। কাহালু উপজেলার অঘোর মালঞ্চা, পিড়াপাট, আয়রা, কানোড়া, শিলকওর, শেখাহার, জয়তুল, উলট্র, দেওগ্রাম ও দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই উপজেলা ও দুই পৌরসভার অনুকূলে এডিপির অতিরিক্ত ৫ কোটি টাকা করে মোট ১০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর চিঠি দেন সংসদ সদস্য। রাস্তা, কালভার্ট, ড্রেনেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কথা উল্লেখ রয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ জেলা পরিষদ শাখা থেকে নন্দীগ্রামে নুন্দহ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা উন্নয়ন প্রকল্প ৪ লাখ টাকা, নুন্দহ জামে মসজিদ ৪ লাখ টাকা ও কাহালুর ধাওয়াপাড়া পূর্বপাড়া বায়তুল্লাহ জামে মসজিদ উন্নয়ন প্রকল্পে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ শীর্ষক জিএসআইডি-২ প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ বাস্তবায়নের জন্য বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দেয়। কাহালুর পাইকর বাজার ঈদগাহ মাঠ উন্নয়নে ৩ লাখ টাকা, কালাই দেওয়ান পুকুর মহাশ্মশান ৩ লাখ টাকা, আজিজুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ মসজিদ ৩ লাখ টাকা, মুরইল ধরপাড়া সর্বজনী মন্দির ৩ লাখ টাকা, নারহট্র সর্বজনী পূজা মন্দির ৫ লাখ টাকা, কাহালু থানা মসজিদ ৩ লাখ টাকা, নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড কলেজ মসজিদ ৩ লাখ টাকা, বাজার মসজিদ ৩ লাখ টাকা, বুড়ইল দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ ৫ লাখ টাকা, ঈদগাহ মাঠ ৫ লাখ টাকা, গছাইল পশ্চিমপাড়া মসজিদ ৩ লাখ টাকা, দলগাছা জামে মসজিদ ৩ লাখ টাকা, পন্ডিত পুকুর জামে মসজিদ ৩ লাখ টাকা ও কুন্দারহাট জামে মসজিদ ৩ লাখ টাকা।
হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে বরাদ্দ চেয়ে জেলা পরিষদে আবেদন করা হয়। গত ২৪ জুন প্রেরিত চিঠিতে প্রতিটি মন্দির ও পূজা মন্ডপের জন্য ১ লাখ টাকা করে মোট ৪০ লাখ টাকা চাহিদা উল্লেখ রয়েছে। কাহালু উপজেলার বানিয়াদীঘি, বীরকেদার মিয়াপাড়া, কালাই থিয়টপাড়া, উৎড়া হিন্দুপাড়া, পলি ভূগোইল সরকার বাড়ি, মালিগাছা, নারহট্র পূর্ব হিন্দুপাড়া, কল্যাণপুর হিন্দুপাড়া, বাথই, ডোমরগ্রাম, মুরইল, কানোরা, দামাই, দুর্গাপুর হাড়িপাড়া, জীবন পুকুর আদর্শ গ্রাম, পানাই হিন্দুপাড়া, শান্তা দক্ষিণ, বর্মনপাড়া, শিবা কলমা উত্তরপাড়া ও দক্ষিণপাড়া। নন্দীগ্রাম উপজেলার ধুন্দার ভক্ততলা, দাসগ্রাম, দামপাড়া, পেং দাসপাড়া, রণবাঘা, আলাইপুর দক্ষিণপাড়া, উত্তরপাড়া, পার নাগরকান্দি, মুলকুড়ি, মহাকুচি, বামনগ্রাম, ছোট কঞ্চি মধ্যপাড়া, মাটিহাস মহন্তপাড়া, কয়ারপাড়া, হাটকড়ই কালিবাড়ি, মালঞ্চি, কাথম, নন্দীগ্রাম কলেজপাড়া ও হিন্দুপাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ।
সম্প্রতি পাঁচটি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র জরুরি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদা পাঠিয়েছেন সংসদ সদস্য। নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামপুর ভুস্কুর সিদ্দিকীয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা, বাঁশো মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়, কাহালু উপজেলার ডা. আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়, বিনোদ কল্যাণপুর উচ্চ বিদ্যালয়। একইসঙ্গে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে নতুন একাডেমিক ভবন। নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল উচ্চ বিদ্যালয় ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন, ডেরাহার উচ্চ বিদ্যালয় ৪ তলা ভবন, নিমাইদীঘি উচ্চ বিদ্যালয় ৬ তলা ভবন, কুমিড়া পন্ডিতপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় ৬ তলা ভবন, পাঠান আলহাজ্ব শমশের আলী (এএসএ) উচ্চ বিদ্যালয় ৪ তলা ভবন ।
কাহালু উপজেলার তাইরুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৬ তলা ভবন, আল্লামে তাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ৪ তলা ভবন, মুরইল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ৪ তলা ভবন, বিবিরপুকুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৪ তলা ভবন, কাহালু বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলের নতুন ৪ তলা ভবন নির্মাণের জন্য তালিকা ইতোমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে।নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে জমে থাকা সমস্যা ছয় মাসে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিয়ে কাজ করছে। যুগোপযোগী মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন, সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের প্রচেষ্টায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। দেশে যত উন্নয়ন সবই হয়েছে বিএনপির আমলে।
