সান্তাহারে মেরিট কোচিংয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির দ্বিতীয় প্রান্তিক পরীক্ষার ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্নপত্র আগেই একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে সান্তাহার পৌর শহরের কলসা ক্লাস্টারের একটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের মেইন রোডের কালিমন্দিরের পশ্চিমে হাবীব ম্যানসনের ৩য় তলায় অবস্থিত মেরিট কোচিং সেন্টার থেকে পরীক্ষার আগের দিন রোববার দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি বিষয়ের একটি প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। পরে ওই প্রশ্নপত্রে কোচিং সেন্টারেও পরীক্ষা নেওয়া হয়। সোমবার সকালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় আসা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে কোচিংয়ে দেওয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া যায়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সান্তাহার কলসা ক্লাস্টারের এক শিক্ষক জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে আসে।
পরীক্ষা শুরুর পর তার কাছে থাকা একটি প্রশ্নপত্রের সঙ্গে বিদ্যালয় থেকে সরবরাহ করা প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল দেখতে পান শিক্ষকরা।এ সময় শিক্ষার্থীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সে জানায়, সে মেরিট কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করে। সেখানে আগের দিন তাকে যে প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল, সেটিই সোমবারের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে গেছে।ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরীক্ষার আগেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র কীভাবে একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছাল—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এ বিষয়ে মেরিট কোচিং সেন্টারের পরিচালক সুমির পাল-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিভাবক শারমির আক্তার বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হওয়ার দাবি জানান তিনি।বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আনা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
