Joy Jugantor | online newspaper

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ভাঙতে ইরানের ‘নির্ভুল’ সামরিক হামলার প্রস্তুতি

প্রকাশিত: ২০:১৩, ১৮ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২০:১৩, ১৮ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ভাঙতে ইরানের ‘নির্ভুল’ সামরিক হামলার প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ভাঙতে ইরানের ‘নির্ভুল’ সামরিক হামলার প্রস্তুতি

ইরান আবারও সামরিক অভিযান জোরদার করার হুমকি দিয়েছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এগিয়ে না গেলে ইরান ‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানে যাবে।সোমবার ওই কর্মকর্তা বলেন, কূটনৈতিকভাবে সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ভাঙতে ইরান ‘সময়মতো ও নির্ভুল’ সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জুনে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

থেমে গেছে শান্তি আলোচনা
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে জুনে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল।১৭ জুন সই হওয়া ওই সমঝোতায় ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা ছিল।সোমবার সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধ এখনো কাটেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে।যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।ইরানের দাবি, সমঝোতা স্মারকের একটি ধারা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে।এরপর হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালায়। ইরানের দাবি, এসব জাহাজ অনুমোদনহীন পথে চলাচল করছিল। জুলাইয়ের শুরুতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, জুনের চুক্তি আর কার্যকর নেই।ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ভবিষ্যতে আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতা স্মারকের সব শর্ত পূরণ করতে হবে।

গোপনে যোগাযোগের চেষ্টা
এর মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ড আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা একজন ইরাকি কুর্দি নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আইআরজিসির কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ভাহিদির কাছে মার্কিন বার্তা পৌঁছানো হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।ফক্স নিউজ পরে জানায়, ট্রাম্পও ওই যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্বেগ ছিল, আলোচনায় থাকা ইরানি কর্মকর্তারা আসলে আইআরজিসির অবস্থান কতটা প্রতিনিধিত্ব করছেন।তবে ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার বলেছেন, ইরান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সক্রিয় হতে পারে।

যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে
যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশটি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রা, জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল।যুদ্ধের পর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এখন পুনর্গঠনের বাড়তি খরচও বহন করতে হচ্ছে দেশটিকে।ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। এর ফলে দেশে নতুন করে বিক্ষোভ তৈরি হতে পারে এবং সরকারের ওপর চাপ বাড়তে পারে।