Joy Jugantor | online newspaper

দুপচাঁচিয়ায় নিষিদ্ধ চায়না জালের অবাধ ব্যবহার, হুমকিতে দেশীয় মাছ

দুপচাঁচিয়ায় নিষিদ্ধ চায়না জালের অবাধ ব্যবহার, হুমকিতে দেশীয় ম

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৫৫, ২২ আগস্ট ২০২৬

দুপচাঁচিয়ায় নিষিদ্ধ চায়না জালের অবাধ ব্যবহার, হুমকিতে দেশীয় ম

দুপচাঁচিয়ায় নিষিদ্ধ চায়না জালের অবাধ ব্যবহার, হুমকিতে দেশীয় মাছ

 বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নাগর নদ-নালা , খাল,ডোবা ও নিচু জমিসহ বিভিন্ন জলাশয়ে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না জাল, স্থানীয়ভাবে যা 'ডারকি' বা 'চায়না দুয়ারি' নামে পরিচিত। কম পরিশ্রমে বেশি মাছ ধরতে পারায় কারেন্ট জালের চেয়েও বিপজ্জনক এই জাল দিন দিন এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।ক্ষুদ্র ফাঁসের এ জালে নির্বিচারে ধরা পড়ছে রেণু, পোনা, ডিমওয়ালা মা মাছসহ ছোট-বড় সব ধরনের দেশীয় মাছ। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে যেমন শিং, মাগুর, কৈ, টেংরা, পুঁটি, খলিসা, টাকি, গজার ইত্যাদি। তবে দীর্ঘদিন ধরে এ জালের ব্যবহার চললেও কার্যকর নজরদারি ও  অভিযানের অভাবে মৎস্যসম্পদ রক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়  ঘুরে দেখা যায়, নাগর নদ ,খাল,নিচু জমি ও জলাশয় পানির তলদেশে বিশেষ কৌশলে চায়না জালের ফাঁদ পেতে দিন-রাত মাছ ধরা হচ্ছে। কোথাও একটি, কোথাও আবার একসঙ্গে একাধিক জাল বসিয়ে পানির পুরো চলাচলের পথ আটকে দেওয়া হয়েছে। এসব জালে শুধু বড় মাছ নয়, রেণু, পোনা, ডিমভরা মা মাছ এমনকি জলজ প্রাণীর অন্যান্য প্রজাতিও আটকা পড়ছে। ফলে প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, চীনে কৃষিজমিতে পোকামাকড় দমনের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তির আদলে তৈরি এ জাল পরে মাছ ধরার কাজে ব্যবহার শুরু হয়। প্রায় এক থেকে দেড় ফুট প্রস্থ এবং ৪০ থেকে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের এ জালে অসংখ্য ক্ষুদ্র খোপ থাকে। লোহার রিং দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি সহজেই পানির তলদেশে স্থির থাকে। মাছ একবার জালের ভেতরে প্রবেশ করলে আর বের হতে পারে না। এতে বড় মাছের পাশাপাশি অতি ক্ষুদ্র পোনাও ধরা পড়ে, যা ভবিষ্যতের মৎস্যসম্পদকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

 কাথাহালী গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় বর্ষা এলেই  প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না জালের কারণে ছোট-বড় সব মাছ শেষ হয়ে যাচ্ছে। মাছ ডিম দেওয়ার আগেই ধরা পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় মাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা  মৎস্য কর্মকর্তা ফারহান ফায়েজ বলেন, 'চায়না জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কোথাও এ ধরনের জাল ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'