বগুড়ায় উদীচীর আয়োজনে গণহত্যা ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
যথাযথ মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বগুড়ায় জাতীয় গণহত্যা দিবস ও মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বগুড়া জেলা সংসদ। গত ২৫ মার্চ কালরাত্রির স্মরণে সন্ধ্যা ৭টায় উদীচী কার্যালয় থেকে একটি ‘আলোর মিছিল’ বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শপথ গ্রহণ করা হয়।শহীদ মিনার চত্বরে উদীচী জেলা সংসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুস সোবহান মিন্নুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীদুর রহমান বিপ্লবের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিপিবি বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি ও আকসুর সাবেক জিএস আমিনুল ফরিদ বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে দেশে মাজার, মন্দির ও মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙচুরসহ স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চলছে। এমনকি পরাজিত শক্তির পক্ষে পাকিস্তান দিবস পালনের ধৃষ্টতাও দেখা যাচ্ছে।”
তিনি উদীচীর অনুষ্ঠানে হামলা ও জাতীয় সঙ্গীতে বাধার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকাল ৮টায় উদীচী কাযালযে জাতীয় পতাকা ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন করা হয়, সকাল ৮ টা ১৫ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অপন করা হয়। এরপর সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুস সোবহহান মিন্নু আলোচনা করেন বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পাটি কগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড আমিনুল ফরিদ, দিন বদলের মন্চের সভাপতি আরিফুল হক খান রনিক, কবিরাজ আব্দুল মজিদ, সাদেকুর রহমান সুজন, নিভারানী সরকার পূনিমা, প্রনব সন্যাল, শিকতা কাজল, রাথারানী বমণ, লূবনা হাসান, বাযোজিদ রহমান।
সমগ্র অনুষ্টান সঞ্চালন করেন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারন সম্পাদক শাহীদুর রহমান বিপ্লব, এরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে উদীচী, চারণ, সপ্তসুর, প্রকাশ শৈলী, নজরুল পরিষদ, সংশপ্তক,খেলাাঘর আসর, থিয়েটার আইডিয়া, ছাত্র ইউনিয়ন ও দিন বদলের মঞ্চের কর্মীরা সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন।সন্ধ্যা ৭টায় উদীচী কার্যালয়ে ‘রণাঙ্গনের গান’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে কথন, আবৃত্তি, নৃত্য ও গণসংগীত পরিবেশিত হয়। সমাপনী বক্তব্যে মাহমুদুস সোবহান মিন্নু বলেন, “জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজ সংকটে। গত বছর জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় মৌলবাদী শক্তি হামলা করেছিল, যা আপনাদের সহযোগিতায় আমরা রুখে দিয়েছি। আগামীতেও যেকোনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় উদীচী রাজপথে থাকবে।”
