Joy Jugantor | online newspaper

রাজশাহীতে নেশার টাকার জন্য মা ও ভাইকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার যুবক

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৭:৩৭, ২৩ আগস্ট ২০২৬

রাজশাহীতে নেশার টাকার জন্য মা ও ভাইকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার যুবক

রাজশাহীতে নেশার টাকার জন্য মা ও ভাইকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার যুবক

রাজশাহীতে নেশার টাকা না দেওয়ায় নিজের মা ও ছোট ভাইকে ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে মেহেদী হাসান মুন্না (৩৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর চন্দ্রিমা থানার মেহেরচন্ডী উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।অভিযুক্ত মেহেদী হাসান মুন্না মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। হামলায় আহতরা হলেন তার মা মনোয়ারা খাতুন টুলু (৫৫) ও ছোট ভাই মৃদুল (২৮)। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পর স্থানীয়দের মারধরে আহত মুন্নাকেও একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেশার টাকা চাওয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুন্নার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি ধারালো বঁটি দিয়ে তার মা ও ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা চালান। হামলার পর ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন তিনি।এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। দরজা না খোলায় তারা ইট ছুড়ে মুন্নাকে আহত করেন এবং পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। একই সময় মুন্নাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত ধারালো বঁটিটি জব্দ করেছে।রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃদুল জানান, নেশা করার কারণে তার ভাই মেহেদী হাসান মুন্না মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এর আগে তাকে পাবনার একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর আবারও নেশায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।মৃদুলের অভিযোগ, নেশার টাকা চেয়ে মুন্না প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর অত্যাচার করতেন।রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, নেশার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মেহেদী মুন্না ধারালো বঁটি দিয়ে তাঁর মা ও ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে আহতদের উদ্ধার করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মুন্নাকে মারধর করেন। পরে তিনজনকেই রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, আহত মনোয়ারা খাতুন ও তাঁর ছেলে মৃদুলের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।এ ঘটনায় মনোয়ারা খাতুনের মেয়ে শনিবার রাতেই চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেছেন। মেহেদী মুন্নাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।