জামিনে বেরিয়েই তাণ্ডবের অভিযোগ: সোনাতলায় বর্গাচাষির ধান কেটে নেওয়ার পর গাছ নিধন
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় ডাকাতি মামলার আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর প্রতিপক্ষের বর্গাচাষির পাকা ধান কেটে নেওয়া এবং পরে বাগানের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর আটকরিয়া (ঝিনেরপাড়া) গ্রামের মৃত আফছার আলী মন্ডলের ছেলে আমিরুল ইসলাম ও তার সৎ ভাই মোজাহিদুল ইসলাম মিল্টনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২৯ আগস্ট ২০২৫ সালে আমিরুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মোজাহিদুল ইসলাম মিল্টনসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি বর্তমানে বগুড়ার দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে মোজাহিদুল ইসলাম, রুবেল মিয়াসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমিরুল ইসলামের বর্গাচাষি মোনারুল ইসলামের লাগানো পাকা ধান জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে সোনাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।ভুক্তভোগী আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ডাকাতি মামলায় জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই প্রতিপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রথমে বর্গাচাষির পাকা ধান কেটে নিয়ে যায়, পরে রাতের আঁধারে বাগানের গাছও কেটে ফেলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।তবে অভিযুক্ত মোজাহিদুল ইসলাম মিল্টন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওই জমি আমার কবলাকৃত।
তারা জোর করে ধান লাগিয়েছিল। তাই আমি ধান কেটে নিয়েছি। গাছ কাটার ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ধান কেটে নেওয়ার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। গাছ কাটার বিষয়েও মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে ভুক্তভোগীকে বলা হয়েছে।এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক সংঘাতের ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
