Joy Jugantor | online newspaper

নওগাঁয় আম পাড়ার সময়সূচি ঘোষণা, ৩ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

আব্বাস আলী (নওগাঁ প্রতিনিধি)

প্রকাশিত: ১৭:০৭, ১১ মে ২০২৬

আপডেট: ১৭:১০, ১১ মে ২০২৬

নওগাঁয় আম পাড়ার সময়সূচি ঘোষণা, ৩ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

নওগাঁয় আম পাড়ার সময়সূচি ঘোষণা, ৩ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

বরেন্দ্র অঞ্চলখ্যাত নওগাঁয় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রকাশ করা হয়েছে চলতি মৌসুমের আম সংগ্রহের ক্যালেন্ডার। জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে নির্ধারণ করা হয়েছে কোন জাতের আম কবে থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এতে আমচাষি, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। গতকাল রোববার(১০ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে আম সংগ্রহের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।এসময় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছাঃ হোমায়রা মন্ডল বক্তব্য রাখেন। সভায় সাপাহার ও পোরশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, আমচাষি, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ২২ মে গুটি আম সংগ্রহের মাধ্যমে মৌসুম শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ৩০ মে গোপালভোগ, ২ জুন ক্ষিরসাপাত/হিমসাগর, ৫ জুন নাকফজলি, ১০ জুন ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙা, ১৫ জুন আম্রপালি এবং ২৫ জুন ফজলি ও ব্যানানা ম্যাংগো সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া দেরিতে পরিপক্ক হওয়া আশ্বিনা, বারি-৪, বারি-১১, গড়মতি ও কাটিমন আম ৫ জুলাই থেকে সংগ্রহ করা যাবে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর নওগাঁ জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে।লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৮ হাজার ৫২২ হেক্টর জমিতে রয়েছে আম্রপালি আমের বাগান। এছাড়া বারি-৪, আশ্বিনা, ল্যাংড়া, ক্ষিরসাপাত ও নাকফজলিসহ বিভিন্ন জাতের আমের আবাদ হয়েছে।বরেন্দ্র অঞ্চলের সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ আমবাগান অবস্থিত।

এসব এলাকায় উৎপাদিত আম দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে সুনাম কুড়াচ্ছে।পোরশা উপজেলার বন্ধুপাড়া এলাকার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রায়হান আলম বলেন, “আমার ২২০ বিঘা জমির বাগানে রপ্তানিযোগ্য আম রয়েছে। দুই লাখ ফ্রুট ব্যাগিং প্রয়োজন হলেও পেয়েছি মাত্র ৫০ হাজার। এতে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।”সরাইগাছী গ্রামের আমচাষি ইসমাইল হোসনে জানান, এ বছর আমের ফলন ভালো হয়েছে। নিয়মিত বৃষ্টির কারণে আমের আকার বড় হয়েছে এবং রোগবালাইও কম। তবে ন্যায্যমূল্য পেলে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।সাপাহার উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আমচাষি আজগর হোসেন বলেন, “মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে ছিল।

বৃষ্টির কারণে সেচ খরচ কমেছে এবং আমের সাইজও ভালো হয়েছে।”সাপাহার আম আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, “আমের মৌসুমে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও যানবাহন আসে। তাই ডিজেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন।”জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছাঃ হোমায়রা মন্ডল বলেন, “অপরিপক্ক আম বাজারে প্রবেশ ঠেকাতেই এই ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪০ কেজির পরিবর্তে অতিরিক্ত ওজনে আম কেনাবেচার অভিযোগ বন্ধে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়কেই সচেতন হতে হবে।”তিনি আরও জানান, জেলায় উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আমকে ঘিরে এবার প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নির্ধারিত সময়ের আগে কোনোভাবেই আম সংগ্রহ করা যাবে না। আমে কেমিকেল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে জ্বালানি সরবরাহ ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”