Joy Jugantor | online newspaper

ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলে ফাটল, অভ্যন্তরে ক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:০০, ১০ মে ২০২৬

ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলে ফাটল, অভ্যন্তরে ক্ষোভ

ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলে ফাটল, অভ্যন্তরে ক্ষোভ

ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরের চাপা ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। দলের অনেক নেতা-কর্মী এবার মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাদের অসন্তোষের মূল লক্ষ্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।রোববার (১০ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার পর এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে বিজেপির কাছে। ৪ মে ফল ঘোষণার পর থেকেই দলের বিভিন্ন স্তরে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।এরপরই দল থেকে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়। গত শনিবার তিনজন মুখপাত্রকে ছয় বছরের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।

দল এখন বিরোধী আসনে বসায়, এমন শাস্তিমূলক পদক্ষেপে তৃণমূলে ঐক্য ফেরানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।তৃণমূলের পরিচিত মুখ রিজু দত্ত একটি ভিডিও বার্তায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপি নেতাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, আগে তৃণমূলের চাপে পড়ে বিজেপি নেতাদের গালাগাল করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এখন বিজেপির সমর্থন ও নিরাপত্তার প্রশংসা করেছেন তিনি। দল তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিলেও রিজু কোনো সাড়া দেননি।সাবেক ক্রিকেটার ও প্রাক্তন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারিও দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তার অভিযোগ, ২০২৬-এর নির্বাচনে টিকিট পেতে প্রার্থীদের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় টিকিট পাননি বলে জানিয়েছেন। মনোজ অরূপ বিশ্বাসের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, খেলাধুলা বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান নেই।

লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের সময়কার বিশৃঙ্খলার জন্যও অরূপকেই দায়ী করেছেন তিনিদলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কোহিনূর মজুমদার ও কার্তিক ঘোষকেও বরখাস্ত করেছে তৃণমূল। কোহিনূর সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে দলের বড় নেতাদেরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।”মালদহের জ্যেষ্ঠ নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারের জন্য দায়ী করেছেন। তার মতে, অভিষেকের কাজের ধরন এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবমূল্যায়ন করার কারণেই দল এত বড় ধাক্কা খেয়েছে।কোচবিহারের নেত্রী পাপিয়া ঘোষও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তার বাবা, জ্যেষ্ঠ নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষও জনসমক্ষে অভিষেকের সমালোচনা করেছেন।তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং সাবেক মন্ত্রী শর্মিলা ভট্টাচার্য এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।দলীয় সূত্র বলছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন ব্যস্ত। তবে অভ্যন্তরের এই অসন্তোষ কতদূর গড়াবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে।