Joy Jugantor | online newspaper

মুনাফায় সোনালী ব্যাংক, লোকসানে জনতা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:২০, ১০ মে ২০২৬

মুনাফায় সোনালী ব্যাংক, লোকসানে জনতা

মুনাফায় সোনালী ব্যাংক, লোকসানে জনতা

একসময় দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হতো রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এসব ব্যাংকের অর্থায়নে গড়ে উঠেছে দেশের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান। তবে সময়ের সঙ্গে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে শিল্প খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ বিতরণ অনেকটাই কমে গেছে। বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এসব ব্যাংকই এখন ব্যাংক খাতের বড় সংকটের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক গত বছরের শেষে রেকর্ড পরিমাণ লোকসানে পড়েছে। অন্যদিকে হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর শিল্পঋণ কার্যত সীমিত করে ফেলেছে সোনালী ব্যাংক। অলস অর্থ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে বড় মুনাফা করেছে ব্যাংকটি। এছাড়া রূপালী ও অগ্রণী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা নিয়ে মুনাফা দেখিয়েছে। ব্যাংক চারটির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে সোনালী ব্যাংক।

২০২৪ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ৯৮৮ কোটি টাকা। গত বছরের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকায়। মুনাফার দিক থেকে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের অবস্থান তৃতীয়। তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক।আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের মুনাফার বড় অংশ এসেছে সরকারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ থেকে। এছাড়া ব্যাংকটির কোনো মূলধন ঘাটতি বা নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি নেই। অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তুলনায় খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনাতেও এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে জনতা ব্যাংক। মুষ্টিমেয় কিছু বড় গ্রাহকের ঋণখেলাপির কারণে ব্যাংকটির লোকসান ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রায় ৭০ শতাংশ ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে গত বছরের শেষে ব্যাংকটির লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকায়। আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

জনতা ব্যাংকের বড় খেলাপি গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো, এস আলম, এননটেক্স, ক্রিসেন্ট ও জনকণ্ঠ গ্রুপ। এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকটির সুদ আয় কমে গেছে। অন্যদিকে আমানতের বিপরীতে সুদ ব্যয় বাড়ায় পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে।অগ্রণী ব্যাংক কাগজে-কলমে মুনাফা দেখালেও বাস্তবে বড় ধরনের মূলধন সংকটে রয়েছে। ২০২৪ সালে ৯২৫ কোটি টাকা লোকসানের পর গত বছরের শেষে ব্যাংকটি ৫৮ কোটি টাকা মুনাফা দেখিয়েছে। তবে ব্যাংকটির প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি রয়েছে।নিয়ম অনুযায়ী, এই ঘাটতি পূরণ করার পর মুনাফা হিসাব করার কথা থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড়ে তা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে খেলাপি ঋণের চাপে থাকা রূপালী ব্যাংকও বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে সীমিত মুনাফা দেখিয়েছে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ১১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যা গত বছরের শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকায়।রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের মধ্যে সোনালী ছাড়া বাকি তিনটি ব্যাংকই বড় অঙ্কের নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতিতে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী খেলাপি ঋণের বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক হলেও জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক তা পূরণ করতে পারেনি। এরপরও বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংককে বিশেষ ছাড় দিয়েছে।