সোনাতলায় যমুনা ম্যাচ ফ্যাক্টরি ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ১;
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে যমুনা ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রিফাত (২৫) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। শনিবার (৯ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ফ্যাক্টরির মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত রিফাত বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে জানা যায়, তিন ভাইয়ের যৌথ মালিকানাধীন যমুনা ম্যাচ ফ্যাক্টরি, যমুনা টোব্যাকো ও যমুনা অটো ফ্লাওয়ার মিলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক ও পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। এসব বিষয় নিয়ে আদালতেও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।ফ্যাক্টরির পরিচালক (প্রশাসন) শাহীন রহমান অভিযোগ করেন, তার বড় ভাই মোস্তাফিজুর রহমান সাদা দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করে আসছেন। তিনি দাবি করেন, ব্যবসার ২২ শতাংশ লাভের অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে জোরপূর্বক তার অংশ লিখে নিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।
এতে রাজি না হওয়ায় শনিবার সকালে ফ্যাক্টরির সামনে তাকে অতর্কিতভাবে আক্রমণ করা হয়।অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে শাহীন রহমানকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। এসময় তার ছেলে মো. আলভী আলফারেত রিফাত এগিয়ে এলে প্রতিপক্ষরা কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।অন্যদিকে একই ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমান সাদা বাদী হয়ে থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগ, ছোট ভাই শাহিনুর রহমান শাহীন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে আদালতে হয়রানি করে আসছেন।
শনিবার সকালে তার প্রাইভেটকারের চালক মো. খোকন মন্ডলকে গাড়ি বের করতে বাধা দেওয়া হয় এবং তাকে গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বাধা দিতে গেলে তাকেও হুমকি ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করেন।শাহীন রহমান বলেন, “আমার অংশ থেকে আমাকে জোরপূর্বক বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে রাজি না হওয়ায় আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”ফ্যাক্টরির আরেক অংশীদার শামীম জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর তারা ফ্যাক্টরি খোলার অনুমতি পেয়েছেন। এরপরও বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। শনিবারও গাড়িচালককে হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “দুই পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
