নওগাঁয় কুরবানির জন্য প্রস্তুত ৮ লাখ গবাদিপশু,
কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে নওগাঁ জেলায় প্রায় ৮ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। তবে দানাদার পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, নওগাঁ জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৮ হাজার ৯০৯ জন খামারি রয়েছেন। তাদের খামারে ষাঁড়, বলদ, গাভী, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াসহ প্রায় ৮ লাখ গবাদিপশু লালন-পালন করা হয়েছে। জেলার কুরবানির চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার পশু। অতিরিক্ত প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার ৬৭৮টি পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।কুরবানির পশুর ভালো দাম পাওয়ার আশায় খামারিরা বাড়তি যত্নে পশু লালন-পালন করছেন। দেশি ষাঁড় ও শাহীওয়াল জাতের গরুসহ বিভিন্ন জাতের পশু খামারে পালন করা হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব পশু সরবরাহ করা হয়।
খামারিরা জানান, আটা, ভুষি, খৈল, খড় ও ঘাস দিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। তবে গত তিন মাসে দানাদার খাদ্যের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের খামারি একরামুল হাসান বলেন, তার খামারে ১০৬টি গরু রয়েছে, যার অধিকাংশই শাহীওয়াল জাতের। প্রতিটি গরুর দাম দেড় লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া রয়েছে ৩১টি খাসি। তার খামারে ৭ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে বাড়তি যত্ন নিতে হয়। কিন্তু পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। বাজারে গরুর ভালো দাম না পেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
আরেক খামারি উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “প্রতি বছর ৫ থেকে ৭টি গরু পালন করি। এ বছর ৫টি গরু লালন-পালন করছি। কিন্তু গত তিন মাসে খাদ্যের দাম ব্যাপক বেড়েছে। ৫০ কেজির খুদের বস্তা ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার টাকা হয়েছে। ১ হাজার ৭০০ টাকার ব্র্যান্ড ফিড এখন ২ হাজার ২০০ টাকা, আর ৮০০ টাকার ফিড কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে ছোট খামারিরা টিকতে পারবে না।”নওগাঁ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, পশুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কৃমিনাশক ও ভ্যাকসিন সরকারি মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে অধিকাংশ দানাদার খাদ্য আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে এর দাম কিছুটা বেড়েছে। খাদ্য সহজলভ্য করা গেলে খামারিরা আরও লাভবান হবেন।নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ট্রেনিং অফিসার ডা. গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার বলেন, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু লালন-পালনে খামারিদের বিভিন্ন পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়বে। পাশাপাশি কুরবানির বাজারে দেশের বাইরে থেকে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।
