Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় ভুট্টার ফলনে হাসছে কৃষক

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:০১, ৫ মে ২০২৬

বগুড়ায় ভুট্টার ফলনে হাসছে কৃষক

বগুড়ায় ভুট্টার ফলনে হাসছে কৃষক

ধান ও অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম খরচে দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় বগুড়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ভালো ফলন এবং বাজারে ভুট্টার চাহিদা বেশি থাকায় তারা মোটা অংকের টাকা আয় করছেন। জেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা কর্তন শুরু করেছেন। ভুট্টার বাম্পার ফলন এবং ভালো দাম পাওয়ায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রবি মৌসুমে জেলায় ভূট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ১৭ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে। এপর্যন্ত কর্তন হয়েছে ২৫ ভাগ। ভূট্টা কাটা-মাড়াই চলমান রয়েছে। রবি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। এছাড়া খরিপ মৌসুমে ভূট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৫০ হেক্টর জমিতে। এপর্যন্ত অর্জন হয়েছে ১৬৫ হেক্টর জমিতে। তবে ভুট্টার বেশি আবাদ হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলায়। এ উপজেলাতে চলতি বছরে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৮ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

এ বছর কৃষকেরা যুবরাজ, পাইওনিয়ার, প্রেসিডেন্ট, সুপার সাইন, কাবেরীসহ নানা জাতের উচ্চ ফলনশীল জাতের ভুট্টার আবাদ করেছেন।জানা যায়, ধান-আলু ও সবজিতে বাম্পার ফলনের পর ভুট্টার আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন বগুড়ার কৃষক। পুষ্টিগুণ ও অর্থকরী ফসল হিসেবে জেলায় দিন দিন বাড়ছে ভুট্টা চাষ। ভুট্টা চাষে সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি লাভ মিলছে দ্বিগুণেরও বেশি। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় উপজেলাগুলোতে ভুট্টার চাষ ব্যাপক হারে বেড়েছে। লাভজনক এই ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যে জেলা কৃষি অধিদপ্তর কৃষকদের সার বীজ ও কৃষি পুর্ণবাসনসহ পরামর্শ সহায়তা দিয়ে কৃষকদের উৎসাহী করছে। জেলার ১২টি উপজেলায় কম-বেশি ভূট্টার চাষ করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে সবচেয়ে বেশি ভূট্টার আবাদ হয়েছে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার চরাঞ্চলে। বিশেষ করে সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলে রেকর্ড পরিমানে ভূট্টার আবাদ হয়েছে। সারিয়াকান্দির ওপর দিয়ে যমুনা এবং বাঙালি নদী প্রবাহিত হওয়ায় এ উপজেলায় বিশালাকার চরাভূমি রয়েছে। ]

এসব চরাঞ্চলে কৃষকেরা পানিসেচের মাধ্যমে গত কয়েক বছর ধরেই ভুট্টার আবাদ করছেন। পুরো চরাঞ্চলজুরে যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই এখন শুধু ভুট্টার ক্ষেত। কৃষকরা এখন মাঠে মাঠে ভুট্টার গাছ হতে ভুট্টার মোচা সংগ্রহ করছেন। সংগৃহীত মোচা ঘোড়ারগাড়িতে বহন করে বাড়িতে নিয়ে আসা, তা মাড়াই করা এবং শুকনো ভুট্টা বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।এদিকে শুধু ভুট্টা বিক্রি করে নয় ভুট্টার গাছ জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছেন অনেকে। একসময় এসব মাঠে ধান, গমসহ অন্যান্য ফসল চাষ হলেও খরচ আর পরিশ্রম কম আবার অধিক ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় লাভজনক ফসল ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছেন এলাকার চাষিরা। কারণ ভুট্টার পাতা, কান্ড, ছাল কিংবা মোচা কোনটাই উচ্ছিষ্ট থাকছে না কৃষকের ঘরে। ভুট্টার সব কিছুরই বাজারে চাহিদা থাকায় লাভজনক ফসল হিসেবে চাষ করেছেন তারা। মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি মাছ, হাঁস-মুরগী ও গো-খাদ্য হিসেবে ভুট্টার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে।

এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে ফলন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। সারিয়াকান্দি উপজেলার চরে এবার প্রতি বিঘায় ৩৩-৩৫ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া গেছে। বিঘাপ্রতি ২০ হাজার টাকার বেশি লাভ হচ্ছে। ভালো ফলন এবং দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।  সোনাতলা উপজেলার হুয়াকুয়া গ্রামের চাষী মুছো মন্ডল জানান, গত বছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছিলেন। বিঘাপ্রতি তিনি কাঁচা প্রায় ৪৫ মণ করে ভুট্টা পেয়েছিলেন যা শুকনায় ৩৫ মণ। এ বছর তিনি তার ৮ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। আশা করছেন গত বছরের মতোই ফলন পাবেন। আগামী সপ্তাহ থেকে তিনি ভুট্টা কর্তন শুরু করবেন। এ বছরও তার বিঘাপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে লাভ হবে।বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, আগে জেলায় ভুট্টার আবাদ কম হতো। পর্যায়ক্রমে চাষ বেড়েই চলেছে। বাজারে ভুট্টার চাহিদা ও ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এখন ভুট্টার চাষ বেড়েছে চার গুণ। বাজারে ভুট্টার দামও ভাল পাচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন আরও বাড়াতে চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণসহ ক্ষতিকারক কীট-পতঙ্গ দমনে সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। মুলত বাজারে ভুট্টার চাহিদার কারণে চাষিদের ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে।