পদত্যাগ না করলে মমতাকে বরখাস্তের আহ্বান আসামের মুখ্যমন্ত্রীর
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তের মোকাবিলা একটা উপায়েই করা যেতে পারে, তাকে বরখাস্ত করা-এমন মন্তব্য করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।মঙ্গলবার (৫ মে) একাধিক ভুলত্রুটি সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অনেকদিন মমতাকে ‘সহ্য করেছে’ বলেও জানান তিনি।এনডিটিভির সিইও এবং এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হিমন্ত শর্মা বলেন, ‘তিনি (মমতা) পদত্যাগ না করলে তাকে বরখাস্ত করা হবে। দেশ তার খেয়াল-খুশিমতো চলে না। রাজ্যপাল একটি নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করবেন এবং তারপর তাকে বরখাস্ত করা হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। আপনি বলছেন আপনার কাছ থেকে ১০০টি আসন ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে? বেশ, তাহলে আমিও বলতে পারি যে কংগ্রেসের জেতা ১৯টি আসন আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আমার ১২৬টি আসন পাওয়ার কথা ছিল।
এভাবে কোনো দেশ চলে না।’এর আগে, টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার পর সোমবার (৪ মে) বিজেপির কাছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। তার দাবি, তিনি নির্বাচনে হারেননি এবং বিজেপি যে ম্যান্ডেট পেয়েছে তা ‘লুট’ করা।মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, ‘আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না। আমি পদত্যাগপত্রও জমা দেব না।’মমতা ইতোমধ্যেই অভিযোগ করেছেন যে এই নির্বাচনে ১০০টি আসন ‘চুরি’ হয়েছে। তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার জন্যও অভিযুক্ত করেছেন।তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্র এভাবে কাজ করে না, যখন বিচার বিভাগ থাকে না। যখন নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট এবং সরকার একদলীয় শাসন চায়, তখন বিশ্বের কাছে একটি ভুল বার্তা যায়।’নির্বাচন কমিশনের ওপর দায় দিয়ে তিনি সংস্থাটির বিরুদ্ধে ‘নোংরা খেলা’ খেলার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আসল প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন কমিশন, বিজেপি নয়।’কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এভাবেই তারা মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার এবং এখন পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচন চুরি করেছে।’
