Joy Jugantor | online newspaper

আত্রাইয়ে মাদক মামলার আসামি আঁখি জেলে, স্বস্তিতে এলাকাবাসী

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:২৩, ১৩ মে ২০২৬

আপডেট: ২১:৩০, ১৩ মে ২০২৬

আত্রাইয়ে মাদক মামলার আসামি আঁখি জেলে, স্বস্তিতে এলাকাবাসী

টেলিভিশনের প্রচারিত সংবাদের আড়ালে আত্রাইয়ে মাদক মামলার আসামি আঁখি জেলে, স্বস্তিতে এলাক র বাস্তবতা

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে “বাবা নেই, মা কারাগারে—অসহায় তিন শিশুর জীবন থমকে গেছে” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়। সেখানে আঁখি খাতুনকে অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করে মাদক মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সংবাদটি প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই বিষয়টি তদন্ত করে আঁখির মুক্তির দাবি জানান।তবে স্থানীয় সূত্র, থানা পুলিশ ও মামলার নথিপত্র ঘেঁটে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।মামলা সূত্রে জানা যায়, আঁখি খাতুনের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের জি.আর মামলা নং-৫৯, ২০২৪ সালের জি.আর মামলা নং-৪০, ২০২২ সালের জি.আর মামলা নং-২৭ এবং ২০১৮ সালের জি.আর মামলা নং-১৮৩ উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া ২০১৯ সালের জি.আর-৬৭ নম্বর মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে ৭টি মাদক মামলা রয়েছে এবং এর মধ্যে ৪টি মামলায় তিনি জেল হাজতেও ছিলেন।জানা যায়, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ মধ্যপাড়ার মৃত খাকছার আলীর ছেলে তোহা হোসেন প্রামাণিকের স্ত্রী আঁখি খাতুন। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিয়ের আগ থেকেই আঁখির পরিবার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। বিয়ের পর স্বামী তোহা হোসেনও মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে গাঁজা দিয়ে শুরু হলেও পরে ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে এ পরিবার। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে অসুস্থ হয়ে প্রায় দুই মাস আগে তোহা হোসেন মারা যান। তার বিরুদ্ধেও তিনটি মাদক মামলা ছিল।স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসা করেই তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এলাকায় তাদের একটি বহুতল বাড়িও রয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পরও আঁখি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।গত ২৬ এপ্রিল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আত্রাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যৌথভাবে আঁখির বাড়িতে অভিযান চালান।

এ সময় আঁখিকে ৪ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয়। একই সঙ্গে তিনজনকে মাদক সেবনের সময় আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে জরিমানা করেন। এরপর থেকেই আঁখি কারাগারে রয়েছেন।এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন তাদের বাড়িতে শতাধিক মাদকসেবীর আনাগোনা ছিল। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল এবং স্থানীয়রা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতেন। প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন তারা।মৃত তোহা হোসেনের সৎভাই সুমন রেজা বলেন, “আঁখিকে বিয়ে করার পর থেকেই আমার ভাইয়ের জীবন ধ্বংস হতে থাকে। সে মাদক সেবন থেকে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।

এখন তার তিন সন্তানও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।”প্রতিবেশী মাকসুদা খাতুন ও শরিফা বেগম বলেন, “তাদের বহুবার বোঝানো হয়েছে মাদক ব্যবসা না করতে। কিন্তু তারা কারও কথা শোনেনি। আঁখি জেলে যাওয়ার পর এলাকাবাসী স্বস্তিতে আছে।”স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হাকিম বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে একাধিকবার সালিস হয়েছে। তারা শুধু নিজেরাই মাদক ব্যবসা করতো না, ছোট শিশুদের মাধ্যমেও মাদক সরবরাহ করাতো বলে অভিযোগ রয়েছে।”আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, “আঁখি খাতুনের বিরুদ্ধে থানায় ৭টি মাদক মামলা রয়েছে। সে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতো। এলাকায় এলেই আমরা অভিযান চালাতাম। সর্বশেষ তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।”