Joy Jugantor | online newspaper

ফেসবুকে পোস্ট দেয়া নিয়ে গণ্ডগোল

বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রলীগের মারামারি, আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬:৫১, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রলীগের মারামারি, আহত ৩

আহত নোমান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে বগুড়ার সদরে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রলীগের দু পক্ষের গণ্ডগোলে তিনজন আহত হয়েছেন।

এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের দুটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

সোমবার রাত ৮ টার দিকে উপজেলার গোকুল ইউনিয়নের সরলপুর পাইকড়পাড়াতে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলেন, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী আল নোমান (২৬) তার বাবা শফিকুল ইসলাম (৪৮) ও চাচা নূর আলম (৪০)। 

তারা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে রাজনৈতিক পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মী মেহেদীর সাথে ছাত্রলীগ কর্মী নোমান ও যুবলীগ নেতা রানার মনমালিন্য হয়। আজ গোকুল ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে জেলায় কমিটিতে সদ্য পদ পাওয়া চার নেতাকে সংবর্ধনা দিতে এক সভা করা হয়। 

ওই সময় যুবলীগ নেতা রানা মেহেদীকে হুমকি দিয়ে পাইকপাড়াতে ডাক দেয়। মেহেদী সেখানে কয়েকজনকে নিয়ে ওখানে গেলে বাকবিতণ্ডায় শুরু হয়। একপর্যায়ে মেহেদীদের দুইটি মোটরসাইকেলে আগুন দিলে মারামারির ঘটনা ঘটে।

আহত ছাত্রলীগ কর্মী আল নোমান অভিযোগ করে বলেন, বগুড়ায় বিএনপির রোডমার্চকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী ও সরলপুর গ্রামের বাসিন্দা ফেসবুকে সরকার বিরোধী আপত্তিকর পোস্ট দিয়ে আসছিলো।

বিএনপির কর্মসূচী শেষে রোববার রাতে পাইকড়পাড়া বাজারে মেহেদীকে এই ধরণের আপত্তিকর পোস্ট দিতে আমি ও যুবলীগ নেতা রানা ভাই নিষেধ করি। সেও রাজনৈতিক শিষ্টাচারে মেনে নিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে চলে যায়। 

নোমান আরও বলেন, কিন্তু আজ সোমবার গোকুল ইউনিয়ন বিএনপির এক সভা শেষে মেহেদী ১৫ থেকে ২০ টি মোটরসাইকেলে তার দলীয় লোকজন নিজের অতর্কিতভাবে হামলা করে। প্রথমে আমাকে চড়থাপ্পড় ও পড়ে ইট দিয়ে উপর্যপুরী মুখ, মাথা ও পিঠে আঘাত করা হয়। এই সময় বাবা ও চাচা বাধা দিতে আসলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদেরও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদ বলেন, আজ বিকেলে পাইকপাড়া এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন কথা বলতে গেলে দু পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি বেধে যায়। সেখানে যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ছিল। পরে দু পক্ষের মধ্যে একটু গণ্ডগোল হয়। এর এক পর্যায়ে আমাদের লোকজনদের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়।

গণ্ডগোলের বিষয় নিশ্চিত করেন সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহিনুজ্জামান। তিনি বলেন, লংমার্চকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মারামারি হয়। এতে লীগের তিন জন আহত হয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে ওই এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।