রোববার খুলছে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং, চলাচল থাকবে সীমিত
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আগামী রোববার গাজা–মিসর সংযোগকারী রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল। তবে এটি কেবল সীমিত সংখ্যক মানুষের চলাচলের জন্য খোলা হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বেসামরিক বিষয় তদারককারী সংস্থা কোগাট।শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাফাহ ক্রসিং গাজার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবেশদ্বার, যেখানে বাস্তুচ্যুত প্রায় ২০ লাখ মানুষ খাদ্য, আশ্রয় ও ওষুধের তীব্র সংকটে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের শর্ত অনুযায়ী এ ক্রসিং খোলার কথা থাকলেও খোলেনি ইসরায়েল।চুক্তির প্রথম ধাপের মূল অংশটি এ সপ্তাহে গাজায় আটক থাকা সর্বশেষ ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর হামাস এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বিশেষ করে রাফাহ ক্রসিং দুই দিকেই কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই খোলার দাবি তোলে।
তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, ক্রসিংয়ের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হবে। কোগাটের বিবৃতিতে বলা হয়, রাফাহ দিয়ে গাজায় প্রবেশ ও বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে মিসরের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে, ব্যক্তিদের বিষয়ে ইসরায়েলের পূর্ব নিরাপত্তা ছাড়পত্রের পর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের তত্ত্বাবধানে- যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চালু করা ব্যবস্থার অনুরূপ।
এতে আরও বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে গাজা ছেড়ে মিসরে যাওয়া বাসিন্দাদের গাজায় ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে সেটিও মিসরের সমন্বয়ে এবং ইসরায়েলের পূর্ব নিরাপত্তা ছাড়পত্রের ভিত্তিতে। ইসরায়েলি সেনা নিয়ন্ত্রিত একটি নির্দিষ্ট করিডরে অতিরিক্ত যাচাই ও পরিচয় নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’–এর পেছনে সরে গেলেও রাফাহ ক্রসিং অবস্থিত এলাকা এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা এখনো ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে বলে জানা গেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উপত্যকাজুড়ে সামরিক অভিযান ও হামলায় হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার আবারও হামাস ক্রসিংটি অবিলম্বে খোলার আহ্বান জানায় এবং যুদ্ধবিরতির ‘দ্বিতীয় ধাপে তাৎক্ষণিক অগ্রসর হওয়ার’ দাবি তোলে। এই ধাপে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া একটি টেকনোক্র্যাটিক ফিলিস্তিনি কমিটির গাজা প্রশাসনে প্রবেশের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।শীতকালীন দুর্যোগের মধ্যে ক্রসিং বন্ধ থাকায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাও গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বারবার রাফাহ পুনরায় খোলার আহ্বান জানিয়েছে।
সোমবার ইসরায়েল জানিয়েছিল, সর্বশেষ বন্দির মরদেহ পাওয়ার পরই রাফাহ খুলবে- এটি একই দিনে ঘটেছে বলে জানানো হয়। নিহত ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তা রান গ্ভিলিকে গত বুধবার দাফন করা হয়েছে।গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি চুক্তি দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হয়েছে, যার লক্ষ্য যুদ্ধের স্থায়ী অবসান। তবে হামাস ও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
হামাস শুক্রবার যুদ্ধবিরতির গ্যারান্টর দেশ- মিসর, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্ক এর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, চুক্তি বাধাগ্রস্ত করা থেকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বিরত রাখতে ‘গুরুতর চাপ’ প্রয়োগ করতে হবে।যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৪৯০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত গাজায় ৭১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলেও ওই মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
