Joy Jugantor | online newspaper

ইইউর সদস্য দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণার হুমকি ইরানের

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:১০, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

ইইউর সদস্য দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণার হুমকি ইরানের

ইইউর সদস্য দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণার হুমকি ইরানের

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) কালো তালিকাভুক্ত করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ ইঙ্গিত দেন।ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লারিজানি বলেন, আইআরজিসির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া ইউরোপীয় দেশগুলোকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার ভাষায়, যেসব ইউরোপীয় দেশ এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তার ফল তাদের ওপরই পড়বে।

এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে পরমাণু চুক্তিতে আসার জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেন। এই প্রেক্ষাপটে ইরান কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায়।তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবাহী রণতরীগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইরানের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর ‘গুরুতর দুর্বলতা’ রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা বহু মার্কিন সামরিক স্থাপনা ইরানের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাজ্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে বলে জানান তিনি।বিবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেন, লক্ষ্য একটাই- ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। এটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিলে তিনি তা সমর্থন করবেন কি না- এমন প্রশ্নে স্টারমার সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, আমরা লক্ষ্যটিকে সমর্থন করি এবং কীভাবে সে লক্ষ্য অর্জন করা যায়, তা নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করছি।ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের মত। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি, পরমাণু কর্মসূচি এবং কূটনৈতিক চাপ- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে।