Joy Jugantor | online newspaper

ইনোভেশন কনসাল্টিং এর জরিপ

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, মনে করেন ৪৭% মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:৪৮, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, মনে করেন ৪৭% মানুষ

ইনোভেশন কনসাল্টিং এর জরিপ তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, মনে করেন ৪৭% মানুষ

নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থন ততই পোক্ত হচ্ছে বলে হালনাগাদ জরিপ চালিয়ে দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইনোভেশন কনসাল্টিং। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস)’তে দেখা যাচ্ছে, এখন ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন।

‘পেপস’–এর তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফল দেখাচ্ছে, এই জরিপের আগের রাউন্ডগুলোয় যারা জামায়াত বা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে ছিলেন, তাদের একটি অংশের সমর্থন বিএনপির দিকে ঘুরে গেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বড় অংশও বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন।গত বছরের মার্চে পেপসের প্রথম রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। আর দ্বিতীয় রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেওয়া নাগরিকদের নিয়ে টেলিফোনে তৃতীয় রাউন্ডের জরিপ চালানো হয়।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার। বিআরএআইএন ও ভয়েস ফর রিফর্ম নামের দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় এই জনমত জরিপ পরিচালনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি জানুয়ারি মাসের ১৬ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ৫ হাজার ১৪৭টি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই জরিপের প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। সাক্ষাৎকারদাতাদের বাছাই করা হয় দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম ও শহর এলাকা থেকে। ভোটার উপস্থিতি, গণভোট সম্পর্কে জনমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পর্কে ধারণা, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও দলীয় পছন্দ—এই ছয় বিষয়ে নেওয়া হয় মতামত।

জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। জরিপে অংশ নেওয়া ২ দশমিক ৭ শতাংশ নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী কে, তা তারা বলতে পারছেন না।জরিপ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন।

এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য বিজয়ী প্রসঙ্গে জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিততে পারেন, এই প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম বলেছেন। ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।পেপসের রাউন্ড ২-এর তুলনায় রাউন্ড ৩–এ বিএনপিকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই হার বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।

বিএনপিতে বেশি ঘুরছেন আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের। কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনও স্থগিত রয়েছে দলটির। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কোথায় যাবে, তা নিয়ে রয়েছে আলোচনা।

পেপসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।

আগের রাউন্ডে জামায়াত বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলা কিছু ভোটারদের সমর্থনও বিএনপির দিকে ঘুরছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। আবার সিদ্ধান্তহীন মানুষেরাও এখন বিএনপিকে বেছে নিচ্ছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে যারা সিদ্ধান্তহীন ছিলেন বা পছন্দ প্রকাশ করেননি, তাদের মধ্য থেকে জামায়াতের তুলনায় বেশি ভোট পেয়েছে বিএনপি। বিএনপির সম্ভাব্য ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটের মধ্যে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে আগে সিদ্ধান্তহীন ও অনির্ধারিত ভোটারদের কাছ থেকে। জামায়াতের সম্ভাব্য ৩১ শতাংশ ভোটের মধ্যে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ এসেছে একই গোষ্ঠী থেকে।

রাউন্ড ৩–এ কিছু জামায়াত সমর্থক তাদের ভোটের পছন্দ প্রকাশ করেননি জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তুলনামূলকভাবে জামায়াতের ভোটব্যাংকে অস্থিরতা বিএনপির চেয়ে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে এনসিপির কিছু ভোট বিএনপির দিকে চলে গেছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

শেষ পর্যন্ত কারা কত ভোট পেতে পারে, এ প্রশ্নে উত্তরদাতাদের মধ্যে যাঁরা তাদের পছন্দ জানিয়েছেন, তারা বিএনপি ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে জানিয়েছেন। জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে ৩১ শতাংশ ভোট। আর ১৩ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা তাঁদের পছন্দ প্রকাশ করেননি।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে ৬০%

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিনেই জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের বিষয়ে পেপস প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরদাতাদের প্রায় ৬০ শতাংশ গণভোটে হ্যাঁ–এর পক্ষে মত দিয়েছেন। ২২ শতাংশ জানিয়েছেন, গণভোটের বিষয়ে তাঁরা জানেন না।গণভোটের বিষয়ে জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা ও মতামতে পার্থক্য দেখার কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে।