ট্রাম্পের কাছে ইরানের হামলার আরও শক্তিশালী বিকল্প উপস্থাপন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে। এতে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কাঠামোতে আঘাত হানা এবং দেশটির নেতৃত্বের ক্ষমতা দুর্বল করার মতো সম্ভাব্য অপশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভ্যন্তরীণ সূত্রকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে মার্কিন প্রশাসন প্রধানত তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন বন্ধে চাপ দেওয়ার ওপর মনোনিবেশ করেছিল। তবে সম্প্রতি নতুন প্রস্তাবগুলোতে কৌশলগত মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিকল্পনায় সীমিত হামলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় টার্গেটেড অভিযান এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সরাসরি ইরানের এলাকায় প্রবেশের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সামরিক প্রস্তুতি পূর্ণ এবং ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। তিনি সতর্ক করেছেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যর্থ হতে হবে। এ সময় পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত নৌ ও বিমান বাহিনী মোতায়েন করেছে, যা কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা প্রয়াস হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
তবে ট্রাম্প নিজেই সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, আমরা আশা করি, কোনো শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন পড়বে না। ইরানের সঙ্গে কথাবার্তা চালানোর প্রস্তুতি চলছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানান, প্রেসিডেন্ট এখনো কোনো নির্দিষ্ট অপশন অনুমোদন দেননি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, ট্রাম্পের ইরানের প্রতি পদক্ষেপের কৌশল ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে নিয়ন্ত্রণের প্রয়াসের মতো হতে পারে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় সামরিক শক্তি সমুদ্রতটে স্থাপন করেছিল নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করতে।সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রস্তাবগুলো মূলত ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল। এখনো কিছু সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি, তবে সামরিক বিকল্প ও কূটনৈতিক সমাধানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায়।
