Joy Jugantor | online newspaper

জয়পুরহাটে এনসিপির জেলা কমিটিকে

‘অদক্ষ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:০৫, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২০:০৭, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

‘অদক্ষ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

জয়পুরহাটে এনসিপির জেলা কমিটিকে ‘অদক্ষ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে বাতিলের দাবিতে মানবন্ধন

জয়পুরহাট জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান কমিটিকে অদক্ষ ও অকার্যকর আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে শহরের জিরো পয়েন্ট মসজিদ মার্কেটের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ওই কমিটির একাংশের নেতাকর্মী, জাতীয় যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা এ দাবি জানান।মানববন্ধনে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ওমর আলী বাবু, জাতীয় যুবশক্তি জেলা কমিটির আহ্বায়ক ইমরান হোসেন, ছাত্রশক্তির জেলা কমিটির সদস্য সচিব রাহিছুল ইসলাম, ওয়ারিয়র্স অব জুলাই জেলা কমিটির সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।এসময় ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব রাহিছুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন করে যে স্বপ্ন নিয়ে এনসিপি তৈরি হয়েছে, আমরা জাতীয় ছাত্রশক্তিও আছি। পরিবর্তন এবং নিজ এলাকায় কাজের জন্য এখানে যুক্ত হয়েছি।

জয়পুরহাট জেলা কমিটি একটা পকেট কমিটির মতন হয়েছে। জাতীয় ছাত্রশক্তি কমিটি পাওয়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনোভাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায় না, সহযোগিতা করতে চায় না। তারা যেই আশা দেয়, সেটি নিয়ে আমরা কাজ কার্যক্রম করতে পারি না। এনসিপির কাছে আমরা বিগত দিনে অনেক কিছু আবদার করেছি, অনেক কিছু চেয়েছি এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি সবসময় কাজ করতে আগ্রহী। কিন্তু তারা আমাদেরকে কোনো রকম সহযোগিতা করতে চায় না। এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি সকলেই মিলে তাদের পকেট কমিটিকে বাতিলের দাবিতে জানাই। আমরা চাই এই পকেট কমিটি অতি দ্রুত বাতিল করা হোক এবং কাজ করার জন্য পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হোক।

যুবশক্তির আহ্বায়ক ইমরান হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের কাছ থেকে কোন পরামর্শ বা আমাদেরকে কোন ভাবে কিছু মেসেজ না দিয়ে এনসিপির কয়েকজন একা-একা কাজ করছে। আমরা তাদের সাথে কোন ভাবেই যোগাযোগ করতে পারি না। আমরা এই কমিটিকে একদম অযোগ্য বলে মনে করছি। তাদের জন্য আমরা কোথাও গিয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারি না।ওয়ারিয়র্স অব জুলাই জেলা কমিটির সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম বলেন, চব্বিশ পরবর্তী সময়ে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে একটি রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছিল, যা এনসিপি। দলটি ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। আমরা জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। সেই জায়গা থেকে আমাদের এই এনসিপিতে আমাদের অনেক সহযোদ্ধা আছে, যারা এখন পর্যন্ত এনসিপিতে কাজ করার মতো সুযোগ পাইনি বা তাদেরকে দেওয়া হয়নি। আমি সমন্বয় কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছি।

কিন্তু সমন্বয় কমিটি ভেঙে দিয়ে যে কমিটি তৈরি হয়েছে, সেই সময় কিভাবে হলো? কোথায় হলো? নিজেই জানতে পারলাম না। মনে করি এই কমিটি একটি বিতর্কিত এবং পকেট কমিটি হিসেবে আমরা দেখতে পাচ্ছি। এজন্য এই কমিটি যদি কাজের অযোগ্য হয় তাহলে আমরা আজকের এই মানববন্ধন থেকে অযোগ্য এবং অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি সমাধান না করা হয় তাহলে আমরা এই কমিটি মানি না-মানবো না। আশা করি কেন্দ্র অতি শীঘ্রই এর সুরাহা করবে।এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ওমর আলী বাবু বলেন, দুই-চারজন ব্যক্তির চাটুকারিতার কারণে এনসিপিতে আমরা যারা শুরু থেকে কাজ করেছি। তাদেরকে বাদ দিয়ে একটি পকেট কমিটি করা হয়েছে।

এছাড়া আমাদের অংশ সংগঠনগুলোকে ভোটের এই সময়েও কাজে লাগানো বা মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা কেন্দ্রের কাছে বলেছি কিন্তু তারা কোন রেসপন্স করেনি। যার কারণে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।জানতে চাইলে এনসিপির সদস্য সচিব ফিরোজ আলমগীর বলেন, ওই মানববন্ধনে এনসিপির একজন, আর অন্য সংগঠনের কয়েকজন ছিল। বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদেরকে জানানো হলে তারা অংশগ্রহণ করেন না। এটি আমরা কেন্দ্রকে জানিয়েছি। আর আমাদের সাথেই বৃহৎ অংশ আছে।