Joy Jugantor | online newspaper

পলাশবাড়ীতে তিন দিন অনাহারে রেখে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

পলাশবাড়ী(গাইবান্ধা)প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৫৮, ২১ আগস্ট ২০২৬

পলাশবাড়ীতে তিন দিন অনাহারে রেখে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

তিন দিন অনাহারে রেখে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভায় ২৩ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে তিন দিন অনাহারে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার হয়ে ওই গৃহবধূ প্রাণভয়ে স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিলে পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট সকালে ও রাতে পলাশবাড়ী পৌরসভার বৈরী হরিনমারী গ্রামের নিজ বাড়িতে ওই গৃহবধূকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ১০ আগস্ট ভোরে পাশের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নে এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

ভুক্তভোগীর মা জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর মেয়ে আজিজা আক্তারের (২৩) সঙ্গে পলাশবাড়ী পৌরসভার বৈরী হরিনমারী গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আপেল মিয়া (৩০)-এর প্রায় পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তিনি বলেন, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাঁর মেয়ের সঙ্গে স্বামীর ঝগড়া-বিবাদ ও নির্যাতন শুরু হয়। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় ব্যবসার জন্য জামাইকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার পাশাপাশি দুই ভরি স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আজিজার পরিবারের অভিযোগ, টাকা-পয়সার জন্য আপেল মিয়া প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করেন এবং বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন।

টাকা না পেলে নির্যাতনের পর স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় এর আগেও গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতে তিনটি অভিযোগ করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আজিজা সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর স্বামী কোনো নিয়মিত কাজ করেন না এবং অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগও রয়েছে। সংসারের খরচ চালানোর পরিবর্তে তাঁকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা ও চাল এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয় এবং জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আজিজার দাবি, যৌতুকের টাকার জন্য এর আগেও ৪-৫ বার তাঁকে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এ কারণে তিনি একাধিকবার আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেও নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি মেয়ের নিরাপত্তা ও তাঁর শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একটি পরিবারের স্বপ্ন ছিল সুখের সংসার। কিন্তু সেই সংসারেই যদি যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে অনাহারে রাখা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠে—তাহলে প্রশ্ন একটাই, একজন নারীর নিরাপত্তা কোথায়? অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা।অভিযুক্ত আপেল এর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।