আদমদীঘিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ঘর ভেঙে বাগানে যাওয়ার রাস্তা তৈরির অভিযোগ
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর পশ্চিম বাজারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের একটি ঘর ভেঙে জায়গা দখল করে ব্যক্তিগত বাগানে যাতায়াতের রাস্তা তৈরির অভিযোগ উঠেছে শান্ত মন্ডল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।অভিযোগপত্রে নসরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মকছেদ আলীসহ ৫১ জন স্থানীয় বাসিন্দা স্বাক্ষর করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট রাতে উপজেলার নসরতপুর ইউনিয়নের ডুমুরিগ্রামের বাসিন্দা শান্ত মন্ডল কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে নসরতপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের একটি ঘর ভেঙে ফেলেন। পরে ঘরটির পূর্ব পাশে প্রায় ৬ ফুট প্রশস্ত ও ১৬ ফুট দীর্ঘ জায়গা দখল করে নিজের বাগানে যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘর ভাঙার বিষয়ে শান্ত মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতে তারা লিখিত অভিযোগ করেন।
নসরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মকছেদ আলী অভিযোগ করে বলেন, কিছু বিএনপির লোকজনকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে শান্ত মন্ডল মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ঘর ভেঙে রাস্তা বের করে নিয়েছেন। এ কাজে নসরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লোকমান আলী বাবু নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর ভাঙার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নসরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লোকমান আলী বাবু বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।নসরতপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করেই ঘরটি ভেঙে শান্ত মন্ডল তার বাগানে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করেছেন।
তবে এ কাজে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কোনো অর্থ লেনদেন হয়নি। টাকা লেনদেন হয়ে থাকলে বিএনপির লোকজনের সঙ্গে হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।অভিযোগের বিষয়ে শান্ত মন্ডল বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ঘরের পূর্ব পাশের দেয়ালটি হেলে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সংসদের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সেটি অপসারণ করে নতুন করে দেয়াল নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজটি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
