Joy Jugantor | online newspaper

২৯ মাস পেরিয়েও মেলেনি বিএনপি নেতা মতিনের বিচার

অসহায় মেয়ের আর্তনাদে ভারী শেরপুরের আকাশ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৫৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

অসহায় মেয়ের আর্তনাদে ভারী শেরপুরের আকাশ

২৯ মাস পেরিয়েও মেলেনি বিএনপি নেতা মতিনে অসহায় মেয়ের আর্তনাদে ভারী শেরপুরের আকাশর বিচার

“আজ থেকে ২৯ মাস আগে আমার বাবাকে যখন কুপিয়ে হত্যা করা হয়, তখন ভেবেছিলাম বিচার পাব। কিন্তু আড়াই বছর কেটে গেলেও খুনিরা আজও ধরা পড়েনি। আমরা কি তবে বিচার পাব না?”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন আর্তনাদ করেন নিহত বিএনপি নেতা মতিনের মেয়ে মৌসুমী আক্তার।রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে শেরপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দীর্ঘ ২৯ মাস ধরে বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ ও বেদনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহত মতিনের স্ত্রী লাইলী বেগম, নাতি মোহাম্মদ ইসলাম ও মাহবুবুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে মৌসুমী আক্তার বলেন, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আব্দুল মতিন। পরদিন সকালে জিনাইগাড়ী পুকুরপাড় সংলগ্ন একটি ধানক্ষেত থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই থেকে শুরু হয় একটি পরিবারের অন্তহীন অপেক্ষা। দিন যায়, মাস যায়, এমনকি দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও তদন্তের অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি।নিহত আব্দুল মতিন ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলর স্থানীয় কর্মী। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তাকে পরিকল্পিতভাবে একটি মামলার ৬৪ নম্বর আসামি করা হয়েছিল। মৌসুমী আক্তার দাবি করেন, বাবাকে হত্যার মাত্র আট দিন আগে দায়ের করা ওই মামলায় অনেক স্থানীয় নেতার নাম না থাকলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বাবার নাম যুক্ত করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পরিবর্তে পরিবারের সদস্যদেরই হয়রানি করা হয়েছে। বিশেষ করে তার ভাই মিলন রহমানকে বারবার থানায় ডেকে নিয়ে মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক এই হত্যাকাণ্ডকে “মাদকসংক্রান্ত বিরোধ” হিসেবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।মৌসুমী আক্তার বলেন, “আমরা শুধু বাবার হত্যার বিচার চাই। একটি সাধারণ রাজনৈতিক পরিবারের কি ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নেই?”সংবাদ সম্মেলনে তিনি তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।এ বিষয়ে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)-এর কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম বলেন, “এটি একটি ক্লুলেস মামলা। তদন্ত চলমান রয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল থেকে এমন কোনো আলামত, সাক্ষ্য বা সূত্র পায়নি, যার মাধ্যমে সরাসরি অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।