রংপুরে পায়ের রগ কেটে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে মা-মেয়ে গ্রেপ্তার
রংপুরের পীরগাছায় পূর্ব শত্রুতার জেরে রোকেয়া বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে এলোপাতাড়ি মারপিট করে পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচাতো ভাই মমিনুল ইসলামসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন— আবুল কাশেম মিয়ার স্ত্রী মমেনা বেগম (৬৩) ও তার মেয়ে সাহেনা বেগম (৩৫)।জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল পীরগাছা উপজেলার কিসামত ছাওলা গ্রামের রোকেয়া বেগম বিকেল ৫টার দিকে পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রোকেয়া বেগমকে আটক করে এলোপাতাড়ি মারধর করে বাম পায়ের গোড়ালি এবং হাঁটুর মাঝখানে পায়ের রগ কেটে দেয় মমিনুল ও তার লোকজন। এ ঘটনায় রোকেয়া বেগমকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাত ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোকেয়া বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় নিহত রোকেয়ার ছোট ভাই আব্দুর রহিম বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় ১১ জনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেন। তাদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পীরগাছা থানা পুলিশ।স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুকুরে গোসল করতে গেলে একই গ্রামের আতিয়ার রহমানের বাড়ির সামনে পথরোধ করে রোকেয়া বেগমকে বাড়ির আঙিনায় নিয়ে মারধর করে পায়ের রগ কেটে দেয় মমিনুল ইসলাম, আতিয়ার রহমানসহ তাদের পরিবারের লোকজন।নিহত রোকেয়া বেগমের ভাই আব্দুর রহিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিকেলের দিকে আমার বোন পুকুরে গোসল করতে গেলে পথরোধ করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এলোপাতাড়ি মারপিট করে পায়ের রগ কেটে দেয় মমিনুল ইসলামসহ তার পরিবার। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই আমার বোন মারা যায়।পীরগাছা থানার ওসি এ কে এম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম বলেন, নিহতের ছোট ভাই আব্দুর রহিম মিয়া বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেছেন। দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
