Joy Jugantor | online newspaper

আগের মতো আর দৌড়াতে পারি না: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:৫৬, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আগের মতো আর দৌড়াতে পারি না: মির্জা ফখরুল

আগের মতো আর দৌড়াতে পারি না: মির্জা ফখরুল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারের সময় কম দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘খালি দৌড়ায় বেড়াতে হচ্ছে। আমার বয়স বেড়ে গেছে। আগের মতো আর দৌড়াতে পারি না, তারপরও দৌড়াচ্ছি। আমার একটা ভরসা আছে যে আমি মির্জা আলমগীর আপনাদের সামনে দাঁড়ালে আপনারা আমাকে একটা ভোট দেওয়ার চিন্তা করবেন। এটাই বোধ হয় আমার শেষ নির্বাচন।’রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় এক নির্বাচনী সভায় এ কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। এ ছাড়া তিনি ওই ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া, বোর্ড অফিস, মার্তগাঁও, তোজামুলের মিল-চাতালে গণসংযোগের পাশাপাশি নির্বাচনী সভা করেন।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রশাসন, পুলিশ, মিলিটারি—তারা একটা নিরপেক্ষ ভোট চায়, সবাই চায়। তাহলে আমাদের একটা সুযোগ আসছে।

এই সুযোগে আমরা সঠিকভাবে প্রত্যেকেই আমরা ভোটটা দিতে পারব। এবার কিন্তু একটা নতুন ব্যাপার আছে, এবার নৌকাটা নাই। নৌকাটা পালায় গেছে। ওই দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। তাদের বহুবার বলছিলাম, ভাই এত খারাপ কাজ করিয়েন না, তাহলে পালাবারও পথ পাবেন না। ঠিকই হেলিকপ্টারে চড়ে পালায় গেল। আর মাঝখান থেকে ওদের যত লোকজন ছিল, কর্মী ছিল, নেতা ছিল সবই বিপদে পড়ল। এমন নেতা আমরা চাই না, যে কর্মীকে বিপদে ফেলে পালায় যায়।’দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো অনিয়ম, দুর্নীতির পথে হাঁটেননি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার বয়স হইছে আটাত্তর, চুলগুলা সব পাকে গেইছে। ৩৫ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে আছি।

ভোটে হেরেছি, কিন্তু চলে যাই নাই। তাঁকে কি আপনি পছন্দ করবেন, যাঁকে এর আগে দেখেনই নাই। এখানে একটা লোক কি বলতে পারবেন যে মির্জা আলমগীর একটা কাজ করে পাঁচটা টাকা খাইছে, উল্টো আমরা বাবার সম্পত্তি বেচে রাজনীতি করছি। বুক ফুলিয়ে বলতে পারি যে আমি চুরি করি নাই, চুরি করি নাই। এ কারণে বুকটা টান করে আপনাদের সামনে আসছি। এই কারণে আপনাদের কাছে আমার একটা দাবিও আছে। আমরা আপনাদের কাছে একটা ভোট চাইতে পারি না? পারি কি না?’জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সামনে আরেকটা দল আসছে, কিন্তু ওরা মিথ্যা কথা বলছে। মিথ্যা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা কি ঠিক হবে? আমার মা-বোনেরা সবাই সহজ-সরল। তাঁদের কোরআন শিক্ষার নাম করে বলতেছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে।

এটা হতে পারে? কোনো মার্কায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে?’নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু লোক থাকবেই, দুষ্টামি করবেই। আমি মনে করি না, এবারের নির্বাচন কেউ বন্ধ করতে পারবে। দেশের মানুষ জেগে উঠেছে যে ভোট আমরা এবার দিবই। সেটা কেউ ঠেকাতে পারবে না। আপনারা পাহারা রাখবেন যেন ভোটকেন্দ্রে কেউ গোলমাল না করতে পারে।’এদিকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের তোজামুলের মিল-চাতালে মির্জা ফখরুল বক্তব্যে জানান, এই দেশ হিন্দু-মুসলমান সবার। এটা মুসলমানদের একার দেশ নয়, আবার হিন্দুদেরও একার দেশ নয়। এখানে সবার সমান অধিকার। তিনি বলেন, ‘আমার মা-বোনেরা, ভাইয়েরা অনেক সময় ভয় পান। ভোট দিলে অন্যরা আক্রমণ করবে কি না, বাড়িঘরে আক্রমণ করবে কি না, বাড়িটা পুড়ায় দিবে কি না? আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আপনারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে যাবেন। সরকার শুধু নয়, আর্মি-মিলিটারি, প্রশাসন এবং আমরা সবাই আপনাদের পাশে থাকব। অবশ্যই এ দায়িত্বটা নিয়েই আমি কথা বলছি।’