Joy Jugantor | online newspaper

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ-রুপার দামে আরও বড় পতন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:৫৯, ১৫ মে ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ-রুপার দামে আরও বড় পতন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ-রুপার দামে আরও বড় পতন

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণ ও রুপা। এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে স্বর্ণের দাম। জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি, মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে চলে যাওয়ায় মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে।শুক্রবার (১৫ মে) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬১৯ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহজুড়ে হিসাব করলে স্বর্ণের দাম ইতোমধ্যে প্রায় ১.৯ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দামও ১.৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬২৫ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান স্বর্ণবাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। ডলারের মান ১ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমেছে।এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাও বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এ সপ্তাহে প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকের দিকে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কূটনীতি এবং বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শি জিনপিং সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্ন সঠিকভাবে সামাল না দেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে’ যেতে পারে।ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যেও এখনই সুদের হার পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। ফলে উচ্চ সুদের হার আরও দীর্ঘ সময় বহাল থাকতে পারে এমন আশঙ্কাও বাজারে চাপ তৈরি করেছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ আমদানিকারক ভঅরতও নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য মহাপরিচালক জানিয়েছেন, অগ্রিম অনুমোদন প্রকল্পের আওতায় স্বর্ণ আমদানি ১০০ কিলোগ্রামে সীমিত করা হবে। যদিও রপ্তানিকারকদের জন্য কিছু ছাড় রাখা হয়েছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্যও বাজারে মিশ্র বার্তা দিচ্ছে। বেকার ভাতার আবেদন সামান্য বেড়েছে, তবে শ্রমবাজার এখনও স্থিতিশীল রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

একই সময়ে এপ্রিল মাসে দেশটির খুচরা বিক্রি টানা তৃতীয় মাসের মতো বেড়েছে, যদিও এর পেছনে মূল্যস্ফীতিরও ভূমিকা রয়েছে।শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮২ দশমিক ০৮ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ২ হাজার ৪৩ দশমিক ২৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৩৫ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতেও স্বর্ণবাজারে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।