যমুনা ভাঙনে চার গ্রাম হুমকিতে, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ স্থাপনা বিলীন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় চারটি গ্রামের মানুষ। ভাঙন রোধ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় দাউদেরপাড়া নদীভাঙন এলাকায় মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।‘যমুনা নদী ভাঙন ঠেকাও, ইউনিয়নের ৪টি গ্রামের মানুষদের বাঁচাও’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে ক্ষোভ, হতাশা ও বেঁচে থাকার আকুতি একসাথে ফুটে ওঠে। নদীর ভাঙনরেখার একেবারে কাছেই দাঁড়িয়ে মানুষজন চোখের সামনে নিজেদের ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন।মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুরজ বেপারী।
এতে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য জামিরুল ইসলাম। এছাড়াও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সামাদ বেপারী, আহসান হাবীব নয়ন, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আত্তাব হোসেন এবং উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খালেদা আক্তার নয়নতারা বক্তব্য দেন।বক্তারা বলেন, যমুনার ভাঙন এখন আর মৌসুমি কোনো সমস্যা নয়, এটি একটি স্থায়ী মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।
প্রতিদিন নদী এগিয়ে আসছে, আর মানুষ হারাচ্ছে তাদের শেষ আশ্রয়। বসতভিটা হারিয়ে পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে চলে যাচ্ছে, অথচ কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।তারা আরও বলেন, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে দাউদেরপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শতাধিক নারী-পুরুষের কণ্ঠে ছিল একই দাবি— আর দেরি নয়, এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। অনেকের চোখে ছিল আতঙ্ক, অনেকের কণ্ঠে ক্ষোভ, আর কারও কারও চোখে নিজের ভিটেমাটি হারানোর নিঃশব্দ কান্না।
