Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ার শেরপুরে সিন্ডিকেটের দখলে আলু বীজ, বিপাকে কৃষক

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:৩১, ২৬ নভেম্বর ২০২৩

বগুড়ার শেরপুরে সিন্ডিকেটের দখলে আলু বীজ, বিপাকে কৃষক

ছবি: জয়যুগান্তর।

আগাম জাতের ধান কাটা শেষ আলু চাষ শুরু হয়েছে। এই সপ্তাহের মধ্যে পুরো দমে শুরু শুরু হবে আলুর লাগানো। এরই আগেই বগুড়ার শেরপুরে সিন্ডিকেটের কব্জায় আলু বীজ। ফলে স্থানীয় বাজারে আলু বীজের কৃত্রিম সংকট তৈরী হয়েছে। ডিলার ও

ব্যবসায়ীদের কাছে বার বার ধর্ণা দিয়েও বীজ মিলছে না। চাহিদা অনুযায়ী মান সম্মত বীজ না পাওয়ায় তাদের মাঝে হাহাকার শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় আলু চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। 

কৃষকদের জিম্মি করে অসাধু ব্যবসায়ী ও ডিলারদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ওই সিন্ডিকেট ইচ্ছেমতো দামে আলু বীজ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি বস্তা বীজ আলু  ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি নিয়ে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সেদিকে কোন নজর নেই।

স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ৩ হাজার  হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে বীজ লাগে দেড় মেট্রিকটন। সে অনুযায়ী এই উপজেলায় বীজের প্রয়োজন সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিকটন। আলু বীজের জাহিদা অনুযায়ী বিএডিসি অনুমান ১০%, ব্রাক ৫% অন্যান্য কম্পানি ৩০% বাঁকিগুলো কৃষক ও বীজ ব্যবসায়ী চাহিদা মেটায়। এসব বীজ বিক্রির জন্য প্রায় ৪৫ জন ডিলার রয়েছে। এরমধ্যে বিএডিসির ১৮জন, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ৮জন ও অন্যান্য কোম্পানির ১৯ জন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি বিএডিসির আলু বীজ বাজারে আসলেও চাহিদা কম। তাই ভাল ফলন পাওয়ার আশায় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক সিড এ- এগ্রো এন্টারপ্রাইজের আলু বীজের দিকে কৃষক ঝুঁকে পড়েছেন। কিন্তু বাজারে কোম্পানির বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। সিন্ডিকেটের কব্জায় চলে গেছে। তাই ডিলার ও ব্যবসায়ীদের দোকানে দোকানে ঘুরেও আলু চাষীরা। তারা জানাচ্ছেন বীজ নেই । তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিলেই মিলছে তাদের কাঙ্খিত আলু বীজ। 

উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের আলু চাষী হেলাল, দুলাল হোসেন, শাহ আলম, ফারুক হোসেন, আবদুস সাত্তারসহ একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, ব্র্যাকের ৪০কেজি ওজনের বীজ আলুর বস্তা ২হাজার ৬০০ টাকা বিক্রি করার কথা। কিন্তু সিন্ডিকেট করে তারা বিক্রি করছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি। এরপরও চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না আলুর বীজ। এছাড়াও সার কিছুটা সংকট দেখিয়েও দাম বেশিতে বিক্রি করছেন। এতে বীজ ও সার বেশি দামে ক্রয় করে চাষ করতে হচ্ছে। 

আলু চাষী শামীম হোসেন জানান, আমি ৩০ বিঘা জমিতে চাষ করতেছি। আলুর বীজ ও সার বেশি দামের পাশাপাশি ২ হাজার ৭টাকা দিয়ে এক বিঘা জমি আলু লাগিয়ে নিচ্ছি। এবার এক বিঘা জমিতে ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। আলুর ন্যায্যমূল্য না পেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব। শঙ্কা প্রকাশ করছি। 

আলু চাষি শ্রমিক জহুরুল ইসলাম জানান, সারাদিনে ১ বিঘা জমিতে ২জন পুরুষ ১জন মহিলা লাগে। আমরা ২ হাজার ৭শ টাকা করে নিচ্ছি। মহিলা মানুষকে ৩টাকা দিতে হয়। আর পুরুষ ১২শ টাকা করে পায়। এই কাজ হবে মাত্র ১০ থেকে ১২দিন তারপর বসে থাকতে হবে।

এসব কৃষকের দাবি, বীজ কোম্পানির একটি চক্রের সঙ্গে ডিলার-ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আগাম বুকিংয়ের নামে বীজ বাণিজ্য করছে। তারা মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ বিএডিসিসহ বেসরকারি কোম্পানির বিভিন্ন ডিলাররা বীজ বিক্রির ওপর কমিশন পান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতরে তেমন কোন মনিটরিং না থাকার সুযোগ নিচ্ছে। 

জানতে চাইলে ব্র্যাকের ডিলার রফিকুল ইসলাম বীজ সংকটের কথা জানিয়ে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী এ উপজেলায় বীজের বরাদ্দ নেই। শেষ পর্যন্ত আলু বীজের সংকট থেকেই যাবে। এ ছাড়া বীজের দাম বাড়ার পেছনে সাব-ডিলারদের দায়ি করে বলেন, প্রত্যেক বীজ ডিলার আবার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাব ডিলার (বীজ বিক্রেতা) নিয়োগ দিয়েছেন। মূলত তারাই কোম্পানির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নিচ্ছেন বলে জানান। বিএডিসি ও ব্র্যাকের আরেক ডিলার ফিরোজ উদ্দীন মাষ্টার বলেন, সবেমাত্র আলু লাগানো শুরু হয়েছে। তারপরও তুলনা মুলক বীজ সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে। 

উপজেলা কৃৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আকতার বলেন, এখানে কোন বীজের সংকট নেই। সময়মত সব কৃষকই বীজ পাবেন। বীজের কারণে আলু চাষ ব্যাহৃত হবে না। এ ছাড়া ডিলাররা নির্ধারিত দামের বাইরে বীজ বিক্রি করতে পারবেন না। এরপরও যারা সেটি করবে-তাদের তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।