Joy Jugantor | online newspaper

গাইবান্ধার শোলাগাড়ী ঈদগাহ আলিম মাদ্রাসা

মাদ্রাসায় জাল সনদে অধ্যক্ষ ও অবৈধ কমিটি দিয়েই চলছে কার্যক্রম 

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ২০:৫২, ১২ অক্টোবর ২০২১

মাদ্রাসায় জাল সনদে অধ্যক্ষ ও অবৈধ কমিটি দিয়েই চলছে কার্যক্রম 

মানচিত্র।

শোলাগাড়ী ঈদগাহ আলিম মাদ্রাসা। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শোলাগাড়ী এলাকায় মাদ্রাসাটি অবস্থিত। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মাদ্রাসাটি। দীর্ঘদিন ধরে অন্যান্য মাদ্রাসার মতোই সুনামের সাথেই প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলে আসছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে মাদ্রাসাটি জালিয়াতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির আতুরঘরে পরিণত হয়েছে। এমন অনিয়মের কারণে এ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। শিক্ষার মান শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিজে সহকারি শিক্ষক হয়েও জালিয়াতির মাধ্যমে ১২ বছর ধরে ওই পদ ধরে রেখেছেন। এ ছাড়া ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা অধিদপ্তর সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের বিপরীতে একাধিক তদন্ত করা হলেও তারা মাদ্রাসার পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

জানা যায়, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্তভার দেওয়া হয়। তদন্তে অধ্যক্ষ মিনহাজ উদ্দিনের জাল সনদ ও জালিয়াতি করে তৌহিদুল ইসলাম শাহিনের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের সত্যতা মেলে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তদন্তে অধ্যক্ষের নানা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় তার এমপিও বন্ধের সুপারিশ সহ কেন বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে ১৫ দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য নির্দেশ জারী করা হয়। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্ত চান অধ্যক্ষ ও সভাপতি। তাদের চাওয়া অনুযায়ী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে পুনঃতদন্ত করতে বলা হয়।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন সরেজমিন তদন্তপূর্বক একটি তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণও করেছেন। জেলা প্রশাসকের তদন্তেও জাল সনদ ও জালিয়াতি করে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের সত্যতা মেলে। 

পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল রেজিষ্টার মো. সিদ্দিকুর রহমান স্বাক্ষরিত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ৩৩৩১৯১২১২৯৯২/১২৫০/২/গাইবান্ধা-৭০ নং স্বারকে অধ্যক্ষকে অপসারণ করে সিনিয়র প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা এবং বিধি মোতাবেক ম্যানেজিং কমিটি গঠন করতে বলা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় সহকারি শিক্ষক ও সভাপতি তাদের অপকর্ম চালিয়েই যাচ্ছে। এখনো অবৈধভাবেই দুজনের সই-স্বাক্ষরেই চলছে মাদ্রসার সকল কার্যক্রম। 

ইতোমধ্যে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারি শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিন ও সভাপতি মোঃ তৌহিদুল ইসলাম শাহিন আরবী প্রভাষক পদ সহ কয়েকটি পদে নিয়োগ বাণিজ্য করে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।  

উল্লেখ্য, মিনহাজ্ব উদ্দিন ২০০৯ সালে প্রভাব খাটিয়ে সিনিয়রদের ডিঙ্গিয়ে একজন সহকারি শিক্ষক হয়েও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরবর্তীতে মাস্টার্সের ভূয়া সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে গোপনে ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারী অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নেয়। ভূয়া-কাগজপত্রের মাধ্যমে নিয়োগ নেওয়ায় দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও সহকারি শিক্ষক হিসেবেই এখনো তিনি বেতন উত্তোলন করছেন। এতে করে একই ব্যক্তি দুটি পদ আগলে রেখেছে। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এখন দুর্নীতির ভারে ন্যুজ্ব হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান স্থানীয় সচেতন মহল।   

জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ আলম পারভেজ বলেন, বিষয়টি মাদ্রাসা কেন্দ্রীক হওয়ায় আমরা কিছু করতে পারি না। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সাঈদ বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বলা হয়েছে। 
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. এনায়েত হোসেন বলেন, আসলে মাদ্রাসার বিষয়ে আমাদের তেমন কিছু করার থাকে না।