Joy Jugantor | online newspaper

মান্দায় পাত্রী দেখানোর নামে বৃদ্ধকে হানি ট্র্যাপে ফেলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ১

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিত: ২১:৪২, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২১:৪৪, ১১ অক্টোবর ২০২৬

মান্দায় পাত্রী দেখানোর নামে বৃদ্ধকে হানি ট্র্যাপে ফেলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ১

মান্দায় পাত্রী দেখানোর নামে বৃদ্ধকে হানি ট্র্যাপে ফেলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ১

নওগাঁর মান্দায় ছেলের জন্য পাত্রী দেখানোর কথা বলে ৬২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে ডেকে নিয়ে মারধর, নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. জাকারিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।আজ রোববার (১১ অক্টোবর) নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় মান্দা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জাকারিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও মান্দা ও মোহনপুর থানায় তিনটি মামলা রয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার বালিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা মীর মো. আনোয়ার হোসেনকে (৬২) তাঁর ছেলের জন্য পাত্রী দেখানোর কথা বলেন পূর্বপরিচিত এক নারী। সেই সূত্র ধরে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁকে মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।অভিযোগ রয়েছে, আগে থেকেই পরিকল্পনা করে জাকারিয়া ও তাঁর সহযোগীরা ওই বৃদ্ধকে ফাঁদে ফেলেন।

কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁকে কিল, ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মেরে জোরপূর্বক অপর এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে এসব ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্তরা। শুধু তা-ই নয়, চাঁদার টাকা আদায়ের জন্য বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়।এদিকে স্বজনেরা চাঁদার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে ওই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মীর মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রোববার (১১ অক্টোবর) মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ও ৮(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়। মামলার নম্বর ১১।মামলা দায়েরের পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মোহনপুর ও মান্দা থানায় আগে থেকেই তিনটি মামলা রয়েছে।মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, ‘নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম স্যারের নির্দেশনায় অপরাধ দমন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। বৃদ্ধকে হানি ট্র্যাপে ফেলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও তিনটি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধী যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মান্দা থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’