Joy Jugantor | online newspaper

ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে দেবী দুর্গা: সারিয়াকান্দিতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:২০, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২০:২২, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে দেবী দুর্গা: সারিয়াকান্দিতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা

ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে দেবী দুর্গা: সারিয়াকান্দিতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা

অবশেষে দুয়ারে পা ফেলবেন দেবী, মাঝে আর কয়েকদিন বাকি। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। তাই সারাদেশের ন্যায় বগুড়ার সারিয়াকান্দিতেও হিন্দু ধর্মাবলন্বির মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সারা বছরের অপেক্ষা শেষ হওয়ার আকাংখা, চারদিকে সাজ-সাজ উৎসবের আমেজ। তাই ঘিরে  উপজেলায় ২৮টি মন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুুতি। এবার ঘোড়ায় চড়ে কৈলাস থেকে দেবী দুর্গা আসছেন পৃথিবীতে, আর চলে যাবেন নৌকায় চড়ে। ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনী বার্তা পৌঁছেছে সবার কাছে ।  দুর্গাদেবীকে সাজিয়ে তুলতে মৃতশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দম ফেলার ফুরসত নেই যেনো তাদের। খড়কুটো ও কাদামাটির কাজ প্রায় শেষ, চলছে শুধু রং-তুলির শেষ আঁচড়।

উৎসবকে ঘির প্যান্ডেল তৈরি, আলোকসজ্জা ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার ২৮ টি পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য।  মন্দির গুলো হলো, বাজার সার্বজনীন কেন্দীয় কালী মন্দির, সাহাপাড়া মদন মহন সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, উত্তর সাহাপাড়া তিনমাথা পূজা মন্দির, শ্রী শ্রী সার্বজনীন দূর্গা মন্দির উত্তর হিন্দকান্দি, সাহাপাড়া বড়বাড়ী সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, মাঝবাড়ী মালোপাড়া দূর্গা মন্দির, ফুলবাড়ী মালোপাড়া সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, ডোমকান্দি মালোপাড়া সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, রামচন্দ্রপুর সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, হরিনা সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, হাটফুলবাড়ী বাজার সার্বজনীন কালি মন্দির, শ্রী শ্রী সার্বজনীন লোকনাথ মন্দির, নারচী মালিপাড়া সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, নারচী নেউলগাছা সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, কুপতলা সাহাপাড়া সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, কুতুবপুর হাট সার্বজনীন মন্দির, দেবডাঙ্গা চর কুমারপাড়া সার্বজনীন মন্দির, বড় কুতুবপুর হাওলদারপাড়া শ্রী শ্রী সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, উত্তর চরকুমারপাড়া সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, মথুরাপাড়া বাজার সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, রৌহাদহ/কড়িতলা দূর্গা মন্দির, পাইকরতলী হাওলদার পাড়া মন্দির, কড়িতলা বাজার রবিদাস সম্প্রদায় সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, চর চন্দনবাইশা পুলিশ ফাড়ী সংলগ্ন মন্দির, নিজবলাইল দক্ষিণ মধ্যপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির, খোদ্দবলাইল ঘোষপাড়া সার্বজনীন মন্দির, হাটশেরপুর শ্রী শ্রী সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, মানিকদাইড় রবিদাস বাড়ি দূর্গা মন্দির। পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং প্রশাসনিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় প্রতিমা তৈরির কাজে কোন বিঘ্ন ঘটেনি। তাই সকল প্রতিমা নির্ধারিত সময়ে প্রস্তুত হয়েছে। তাই এবার সময়মত উৎসবের আয়োজন সম্পন্ন করতে পারবেন বলছেন শিল্পী ও আয়োজকেরা।বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা যায়, কোথাও বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার কাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, কোথাও চলছে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ। কোনো কোনো কর্মশালায় মাটির কাজ শেষে প্রতিমার মুখাবয়ব, সূক্ষ্ম কারুকাজ, রং ও অলংকার সংযোজনের প্রস্তুতি চলছে। সময়মতো প্রতিমা সরবরাহ নিশ্চিত করতে অনেক কারিগরকে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।মৃৎশিল্পী রঘুনাথ কুমার পাল বলেন, একটি প্রতিমা তৈরি করতে সাধারণত চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে। কাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে মাটি শুকানো, রং করা ও সাজসজ্জা—প্রতিটি পর্যায়ে সতর্কতা প্রয়োজন। পূজার নির্ধারিত সময়ের আগেই সব প্রতিমার কাজ শেষ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

মৃৎশিল্পী নয়ন কুমার রাজভর জানান, “আমি  এবার ৬ টি প্রতিমা তৈরির বায়না পেয়েছি। কাজ এখন মোটামুটি শেষ পর্যায়ে। রাতদিন পরিশ্রম করে শেষ করে ফেলেছি প্রতিমা তৈরীর কাজ। এখন রং তুলির আচর পরবে। মাটিসহ সকল সরন্জামের দাম বেড়ে গিয়েছে তাই খরচ একটু বেশি হচ্ছে প্রতিমা তৈরীতে। আমি আশা করছি  সময়মতো সব প্রতিমার কাজ শেষ করতে পারবো।সারিয়াকান্দি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক নিরঞ্জন সরকার বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপন করতে পারবেন বলে তাঁরা আশাবাদী। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীধর্মীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পূজা এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার - অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে পাঁচ দিনের উৎসব। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান বলেন, থানা পুলিশ, সিসিটিভি, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নজরদারি দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে সকল ধরনের নিরাপত্তা - মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনসার সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও জনপ্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।ইউএনও আরও জানান, আজান ও নামাজের সময়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান বজায় রেখে পূজা-অর্চনা পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শুধু ক্যামেরা স্থাপন নয়, সেগুলোর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং অভিযোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। উৎসব চলাকালে এসব ব্যবস্থার বাস্তবায়ন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।