সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শাহেদের মৃত্যু বগুড়ায় শাজাহানপুরে পরিবারে শোকের মাতম
কথা ছিল ৫ বছর পর বাড়ি ফিরে গড়বেন দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ। তার বিদেশী আলোয় আলোকিত হয়ে যাবে পরিবার। জমিজমা বিক্রি আর ধারদেনা করে পরিবারের ভাগ্যে বদলানোর জন্য হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছিলেন শাহেদ আহমেদ আশিক। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মানুষরা এমন কথাই বলছেন।একদিকে স্ত্রী ও সন্তানের কান্না অন্যদিকে গ্রামবাসির হাহাকার। মাদলা গ্রামটির আকাশে যেন হুতিদের কালো মেঘের ছায়ায় ঘিরে ফেলেছে। কারো চোখে পানি আবার কেউ আহাজারি করছেন বুক চাপড়িয়ে। মিডিয়া কর্মীদের বলতে থাকেন সংবাদ প্রকাশ করে কি হবে। আমাদের স্বজনকে আর ফিরে পাব না।গ্রামের বাড়িতে শাহেদের স্ত্রী মোছাঃ কাকলী বেগম, ১১ বছরের সন্তান কাউছার এবং ৬ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ। এই দুই সন্তান বাবার মৃত্যুর খবরে কথা বলতে পারছে না।
স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী যেমন দিশেহারা, তেমনি বাবার মৃত্যুর খবর দুই শিশুর জীবনে ডেকে এনেছে অপূরণীয় শূন্যতা। এক মাসের ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা শাহেদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর সৌদি আরবে বসবাসরত বাবা মার কাছে পৌছান বাংলাদেশের স্বজনেরা। নিহত শাহেদ আহম্মেদ আশিকের বাবা-মা সৌদি আরবে ওমরাহ হজ্ব পালন করতে গিয়েছেন।জানা যায়, এক মাসের ছুটি কাটিয়ে স্ত্রীসহ সন্তানদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সৌদি আরবে ফিরেছিলেন শাহেদ আহমেদ আশিক। কিন্তু কে জানত, সেই যাত্রাই হবে পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ বিদায়। সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাঁর মৃত্যুর খবরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পশ্চিমপাড়ার বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী, বাবাকে হারিয়ে দুই শিশুসন্তান এবং সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা। প্রায় দুই বছর আগে প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে যান শাহেদ।
তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম প্রায় ২৭ বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে চাকরি করছেন। তিন মাস আগে তাঁর মা-ও ওমরাহ হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছেন।নিহত শাহেদ আহমেদ আশিক বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।তার স্ত্রী কাকলী বেগম জানান, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় সৌদি আরবের উদ্দেশে বিমানে ওঠেন তিনি। এর আগের দিন, ৯ অক্টোবর বগুড়া শাজাহানপুর বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে যাত্রার প্রস্তুতি নেন। প্রায় এক মাস বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। অথচ সেই ফেরা আর হলো না।শনিবার রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হন। আহত হন আরও চার বাংলাদেশি। তাঁরা রিয়াদের কিং খালেদ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
