বগুড়ায় স্বচ্ছতার সাথে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের আহ্বান - এমপি বাদশা
‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা আড়াইটায় বগুড়া সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দত্তবাড়ী ওয়ার্ড কার্যালয়ে আয়োজিত অবহিতকরণ সভা ও প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং বগুড়া শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে বেলা ২টায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের সূচনা করেন। বগুড়া শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, বগুড়া জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহজাদী লায়লা আরজুমান ও সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার ।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জনা বেগম, সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হুমায়রা ফারজানা, সদস্য সাদিয়া শারমিন মুমু, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আলহাজ্ব ময়নুল হক বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এস খন্দকার সোয়েল, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ফেরদৌস ইবনে রশিদ পিনাকী, সহসভাপতি আমিবুর রায়হান, শহর সমাজসেবা কর্মী আব্দুল মান্নান, শিশির চন্দ্র সরকার, পারুল বেগম, সাবিয়া মেরিন ফৌজিয়সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে চিহ্নিত করে তাদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একটি পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো গেলে সদস্যদের জীবনমান উন্নত হয়, শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয় এবং সমাজে দারিদ্র্য কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। তাই এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সঠিক তথ্য সংগ্রহের বিকল্প নেই। সভাপতির বক্তব্যে শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ যেন নিজের আর্থিক অবস্থা বাড়িয়ে বা কমিয়ে উপস্থাপন না করেন।
প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতেই উপকারভোগী নির্বাচন করা জরুরি। ভুল তথ্যের কারণে অযোগ্য কেউ সুবিধা পেলে প্রকৃত অসহায় পরিবার তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এ জন্য তিনি এলাকাবাসীকে তথ্য সংগ্রহকারীদের সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষামূলক উদ্যোগ অসচ্ছল পরিবারের জন্য আশার আলো হয়ে উঠতে পারে। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ, নারীর সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আর্থিক সংকট মোকাবিলায় এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বগুড়া সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সরকারি ট্যাব সরবরাহ সাপেক্ষে সিটি করপোরেশনের অন্যান্য ওয়ার্ডেও এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন।এ সময় এলাকাবাসীকে পরিবারের নারীপ্রধানের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল সিম এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়। ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিনিময়ে কেউ অর্থ দাবি করলে কিংবা টাকার বিনিময়ে কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তা বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তথ্য প্রদানের জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়। অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত ১৮ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও দুজন সুপারভাইজার উপস্থিত ছিলেন। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত অসচ্ছল পরিবার চিহ্নিত করে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
