সোনাতলায় দেড় মাসেও সরেনি ঝড়ে পড়া গাছ,
বগুড়ার সোনাতলায় সাতবেকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ঝড়ে উপড়ে পড়া একটি গাছ দীর্ঘদিনেও অপসারণ করা হয়নি। গত ৮ আগস্ট ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছটি এখনো মাঠে থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিকেলে মাঠে খেলাধুলা করতে আসা স্থানীয় শিশু-কিশোররাও ভোগান্তিতে পড়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত গাছটি সরানোর দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট ঝড়ের সময় বিদ্যালয়ের মাঠে একটি বেজিয়াম গাছ পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গাছটি অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে মাঠের একটি অংশ ব্যবহার করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এতে বিদ্যালয়ের নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি স্থানীয় শিশু-কিশোরদের বিকেলের বিনোদন ও খেলাধুলাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় দুই অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ শিশুদের খেলাধুলা ও আনন্দের অন্যতম জায়গা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সেখানে একটি গাছ পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করতে পারছে না। বিদ্যালয় ছুটির পর এলাকার শিশু-কিশোররাও মাঠটি ব্যবহার করত। বর্তমানে গাছটি পড়ে থাকায় তাদের খেলাধুলার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু একটি গাছ অপসারণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীরা মাঠ ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অবিলম্বে গাছটি সরিয়ে মাঠটি খেলাধুলার উপযোগী করার দাবি জানান তাঁরা।বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিন বলেন, ঝড়ে গাছটি পড়ে যাওয়ার পর প্রথমে মৌখিকভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়।
পরবর্তী সময়ে গাছটি অপসারণের জন্য লিখিত আবেদনও করা হয়েছে। তবে আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই।সোনাতলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইতিয়ারা পারভীন বাংলা লেন্সকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন এবং ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গাছ অপসারণের আবেদন পাওয়া গেছে। বন বিভাগকে অবহিত করে সরকারি বিধি অনুযায়ী গাছটি বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।এদিকে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের মাঠে গাছটি পড়ে থাকায় অসন্তোষ জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন অনুসরণ করে দ্রুত গাছটি অপসারণের ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও মাঠে স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ ফিরে আসে।