রাজার কাছে কবির চিঠিঃ যেমন বিএনপি চায় বাংলাদেশ
আজকে যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দেশে ক্রিয়াশীল সেই ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে সুদীর্ঘ ১৭ বছরে লেখক সাজ্জাদ সাঈফের অপরিমেয় ক্ষয়ক্ষতিস্বীকার, হার না মানা ফ্যাসিস্ট বিরোধী এক্টিভিজম, শাহবাগবিরোধি উচ্চারণ, নিরাপদ সড়ক ও কোটা আন্দোলনে প্রকাশ্য হাসিনাবিরোধিতা, বছরকে বছর প্রথমালো ডেইলি স্টার গ্রুপসহ একের পর এক মেইনস্ট্রীম মিডিয়ার অঘোষিত অবরোধ, সাহিত্যজগতে নির্মমভাবে বছর বছর একঘরে করে রাখা, বইপত্র বিক্রি হতে না দেয়া, প্রকাশককে দিয়ে চক্রান্ত করে পাণ্ডুলিপি ফিরিয়ে দেয়া, ফ্যাসিস্ট বিরোধী লেখাপত্র ছাপানো ওয়েবসাইটই গায়েব করে দেয়া, বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন সেক্টর হতে ভয়ংকর সব হুমকি উপেক্ষা করে এমনকি জীবন জীবিকার ওপর চূড়ান্ত পর্যায়ের আঘাত সহ্য করেও সশস্ত্র বাহিনীর উঁচান রাইফেলের মুখেই সন্তানকে এগিয়ে দিয়ে ফ্যাসিস্ট বিরোধী গ্রাফিতি আঁকানো, একটানা ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া অমানসিক সব অসম যুদ্ধের ভূমিকা আছে। আর এর ধারাবাহিকতায় ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে লক্ষ্য করে জিয়া দম্পতির রেখে যাওয়া বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পক্ষে সারাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব ন্যারেটিভস নির্মাণ ও মিডিয়া ম্যানেজমেন্টেও অধম ডাঃ মোঃ রমজান সরকার(সাজ্জাদ সাঈফ)'র উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।
একজন প্রকৃত কবির কাছে তার শিল্পই মূল লক্ষ্যবস্তু, এরচেয়ে দামি কিছুই নাই যা দিয়ে তাকে ম্যানেজ করা যায়, বিশ্বকবিতার ইতিহাস এই শিক্ষাটাই দেয়। বিএনপির ভুলে যাবার বিন্দুমাত্র সুযোগ নাই যে তারা আওয়ামী লীগ নয় আর সেজন্যই চাটুকারে চারপাশ ভরে আওয়ামী স্টাইলের রাজনীতিতে বিএনপিকে একদমই বিশ্রী দেখায়, অতঃপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপনার নিকট আকুল আবেদন আপনার আশপাশ হতে অযোগ্যদের তড়িৎ গতিতে সরান, আপনার প্রেস উইংস হতে শুরু করে মিডিয়া উইংস তথা কালচারাল উইংস এতই অযোগ্য লোকে ভর্তি যে আপনার প্রকৃত ভোটারদের চোখে এদের প্রায় সব কর্মকাণ্ডই টক্সিক লাগতেছে। আপনি ফিফথ জেনারেশনের প্রযুক্তিবিশ্বের একজন রাষ্ট্রপ্রধান কিন্তু আপনার উইংসগুলার কাজকর্ম সেই হিসাবে বিলো স্ট্যান্ডার্ড। আমি সামান্য লোক তবে আপনার জন্য আমার একটা এক্টিভিজমও সামান্য আছিল না কেন জানেন? কারণ আমি অন্যদের চেয়ে অগ্রীম আকাঙ্ক্ষা করছিলাম আপনার ভিতরে বাংলাদেশ রাখাল রাজা পার্ট টুকে পাবেই পাবে, রাখাল রাজার ব্যান্ড মিউজিকে নতুন প্রজন্মের কাছে আপনার মহান পিতাকে সবচেয়ে ভিন্নভাবে তুলেও ধরেছি সেই আশাতেই। সফট পাওয়ার পলিটিক্সের অসংখ্য টুলস আমার লেখাপত্র গান বাজনায় ছড়ায় রাখা আছে কিন্তু একটারও মিনিং আপনার গড়ে তোলা অসাধারণ সব মেধাবী নেতাকর্মীরা রিড করতে পারে নাই তো জনগণের পালস যে তারা মিসরিড করবে এইটা আশ্চর্যের কিছু নয়। দেশ দেশ করে ব্রাইটেস্ট মেডিকেল ক্যারিয়ারকে জলাঞ্জলি দিয়ে একটা টপার যুবকজীবন উৎসর্গ করে হাসিনার বানানো মৃত্যুপুরী বাংলাদেশে গনতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একজন সম্মুখ যোদ্ধা হিসাবে আমার অধিকার আছে আপনাকে এই কঠিন কথাগুলি বলার।
দয়া করে 'সবার আগে বাংলাদেশ' ডক্ট্রিনকে শুধুমাত্র নির্বাচনে জেতার কৌশলী শ্লোগান করে না রেখে এর ফেভারে কাজ করবার মতন যোগ্য সৎ দেশপ্রেমিক পরোপকারী আত্মত্যাগী মানুষ বেছে বেছে নিজের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মহান জিয়া দম্পতির জীবন দিয়ে গড়া বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে বাস্তবায়নে স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠন করুন। জেলায় জেলায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের গুরুত্ব বিষয়ে মহান জিয়া দম্পতির জীবনব্যাপী দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ডিজিটাল লাউব্রেরি ছড়িয়ে দিন, জাতীয়তাবাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও ফলাফলের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাঠ্যপুস্তকে যোগ করান, ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর বিধ্বস্ত জাতীয়তাবাদী জাতিরাষ্ট্রগুলা বিনির্মাণের খসড়া নিয়ে ক্যাপাবল রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদেরকে একত্র করে ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়ে কিভাবে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর সার্বভৌম ও বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আত্মমর্যাদাশীল করে গড়ে তোলা যায় সেইসব প্ল্যান প্রোসিড করুন। জাতীয় নিরাপত্তায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা, জননিরাপত্তায় ও খাদ্য নিরাপত্তায় বেস্ট পসিবল উপায়গুলি সামনে আনুন অতঃপর ক্যারি অন করুন হে রাখাল রাজার সুযোগ্য উত্তরাধিকার।আপনার কেবিনেটে জুলাই যে কোনোভাবে হেনস্থা হলে সবচেয়ে বেশি আঘাত পাবে আপনার মহান পিতামাতার আমৃত্যু লালিত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আদর্শ। আপনার কেবিনেটে গণ আকাঙ্ক্ষা পরিপন্থী যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের দায়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসাবে দীর্ঘকালীন অন্ধকারে ডুবে যাবে যা হবে বিগত ১৭ বছরের চেয়েও বিভীষিকাময়। সারা বাংলাদেশ আপনার দিকে চেয়ে আছে শুধু বাংলাদেশের নেতা হিসাবে নয় বিশ্ব রাজনীতির একজন প্রভাবশালী নেতা হিসাবেও আপনার দেশপ্রেমিক ইস্পাতকঠিন নেতৃত্বের প্রতীক্ষায়।
আপনার চারপাশে নিযুক্তদের আপাতদৃষ্টিতে ছোট ছোট অথচ গভীর চিন্তার উদ্রেককারী অদক্ষ অদূরদর্শী কর্মকাণ্ডে তৃণমূল নেতাকর্মীদের হৃদপিণ্ড কেঁপে ওঠে, এক মুহূর্তের জন্য যেন কি একটা দানবীয় আশংকা খেলে যায় সবার মনে, আমরা দেশ দেশ করে আপনার পুরো পরিবারের সাথে ঘটা নির্মমতা কেউই বিস্মৃত নই, আপনার নিরাপদ থাকার বিষয়টিও বাংলাদেশের ভাগ্যের সাথে আষ্ঠেপৃষ্ঠে গ্রন্থিত। দয়া করে পতিত ফ্যাসিজমের সামান্যতম মাথাচাড়াকেও গুরুত্বের সাথে ডিবাংক করুন। বাংলাদেশ আর কখনো আওয়ামী রাজনীতি ডিজার্ভ করে না এই গুরুতর সত্যটাকে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থায় ডিল করুন।আপনাকে অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার মত ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে কাল্ট ফিগার হতে হবে না, আপনি ইতিমধ্যেই কাল্ট ফিগার, উত্তরাধিকারসূত্রেই আপনি মূলত অনাগত সব প্রজন্মের অনুসরণীয় রাজনীতি ডিজার্ভ করেন। দয়া করে আওয়ামী লীগের মিডিওকার রাজনীতির অনুসরণ বন্ধ করান এমপি মন্ত্রীদের আর আওয়ামী পুনর্বাসনের কথা কি আর বলি যাহাই করেন ইতিহাসে পিতামাতার অবস্থান চিন্তা করে করেন প্রিয় সহযোদ্ধা!
-
