জাতিসংঘকে ১৬ কোটি ডলার বকেয়া পরিশোধ করলো যুক্তরাষ্ট্র
জাতিসংঘের কাছে পাওনা ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বকেয়া অর্থের মধ্য থেকে প্রথম কিস্তিতে ১৬ কোটি (১৬০ মিলিয়ন) ডলার পরিশোধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে নিয়মিত বাজেটের অংশ হিসেবে এই আংশিক অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের এক মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের প্রথম বৈঠকের দিনেই এই অর্থ পরিশোধের খবরটি সামনে এল। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা জাতিসংঘকে আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে এবং আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী হিসেবে দেখতে চায়।জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত সংস্থাটির নিয়মিত বাজেটে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই বকেয়া ছিল প্রায় ২ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘের মোট পাওনার ৯৫ শতাংশেরও বেশি। এ ছাড়া শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের জন্য আরও ৪৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে ওয়াশিংটনের কাছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের একক বৃহত্তম অর্থদাতা দেশ হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের আগের মেয়াদে নিয়মিত ও শান্তিরক্ষা বাজেটে বাধ্যতামূলক অর্থ প্রদান স্থগিত রাখা হয়েছিল এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সভায় বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘকে আর্থিকভাবে সহায়তা করব এবং সংস্থাটি যাতে টিকে থাকে তা নিশ্চিত করব। জাতিসংঘের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারা সেই সম্ভাবনাকে এখন পর্যন্ত পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।’তার এই বক্তব্য এবং বকেয়া অর্থের একটি ক্ষুদ্র অংশ পরিশোধের সিদ্ধান্তকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে মার্কিন অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গাজা পরিস্থিতিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের নতুন কূটনৈতিক কৌশল ‘বোর্ড অব পিস’ এখন বড় ধরণের অর্থায়নের মুখাপেক্ষী।গত বছর প্রস্তাবিত এই ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগটি মূলত গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তদারকির জন্য পরিকল্পনা করা হলেও বর্তমানে এর পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই বোর্ড এখন থেকে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত নিরসনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘকাল ধরে অর্থ সংকটে ভোগা জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের আশা, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকেও তাদের বকেয়া পরিশোধে উৎসাহিত করবে। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই দেশটির আর্থিক ও রাজনৈতিক সমর্থন জাতিসংঘের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
