কাহালুতে গাছে গাছে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল
বগুড়ার কাহালুতে গাছে গাছে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে সুবাসিত প্রকৃতি। আম বাগানে, বাড়ির উঠানে, রাস্তার পাশে আম গাছে এসব মুকুল শোভা পাচ্ছে। জানান দিচ্ছে মধু মাসের আগমনী বার্তা।ঋতু বৈচিত্রের শীতকাল শেষে ঋতুরাজ বসন্তে গাছে গাছে আমের মুকুল আসে। এসময় আবহাওয়া শুস্ক থাকায় খুব একটা বৃষ্টিপাত হয় না। আমের মুকুল পুষ্ট হতে সাহায্য করে। গাছে মুকুল দেখা দেয়ার কিছু দিন বাদে তাতে ঔষধ স্প্রে করা হয়।আমের মুকুল যাতে ঝরে না যায় সেজন্য মুকুলে হরমন জাতীয় ঔষধ স্প্রে করতে হয়। মোটরশুটির দানার মতো আমের গুটি বের হয়ে সেগুলো ধীরে ধীরে এক একটি আমে পরিনত হয়।দীর্ঘ দিন বৃষ্টি না হলে আমের মুকুলে মশা, মাছি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ বসে মুকুল শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমের কাঙ্খিত ফলন হয়না।
এছাড়া কালবৈশাখী ঝড়েও গাছ থেকে প্রচুর কাঁচা আম ঝরে পড়ে।আম ভিটামিন এ ও সি সম্মৃদ্ধ একটি ফল। এটি মধু মাসের একটি অন্যতম ফল। মধু মাসে জামাই আদরে আম না হলে যেন চলেইনা। গ্রাম বাংলায় আম দিয়ে দুধ ভাত খাওয়ার রীতি অনেক পুরোনো। খেতেও মজা।উপজেলার হাট বাজারে মৌসুমি আম ব্যবসায়ীরা উন্নত জাতের সুস্বাদু, মিষ্টি পাকা আম বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। মধুমাসে আম কিনতে বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় করতে দেখা যায়। ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষীরসাপাতি, হাড়িভাঙ্গা,গোপালভোগ, আমরুপালি,বারোমাসি আম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। উত্তরবঙ্গের রাজশাহী, চাপাই নবাবগন্জ ও নওগাঁর আম প্রসিদ্ধ হলেও উন্নত জাতের আম গাছ এখন গ্রাম মহল্লার প্রায় সব মানুষের বাড়ির উঠানে ও আম বাগানে রয়েছে। এসব আম গাছে মুকুল আসলে তা পরির্চযা করে এখন নিজের চাহিদা মিটিয়ে অনেকে হাট বাজারে আম বিক্রি করে থাকেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, উপজেলায় আম গাছের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ব্যক্তি পর্যায়ে প্রত্যেকে আম গাছের পরির্চযা করে থাকেন। সঠিক ভাবে আম গাছের পরিচর্যা করা হলে আম গাছ থেকে বছরে বাণিজ্যিক ভাবে আয় করা সম্ভব।
