ঐতিহ্যের টানে মুখরিত গাংনগর মেলা
চার'শ বছরের ঐতিহ্য বয়ে চলা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গাংনগর মেলা আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বৈশাখের শুরুতেই বসা এই ঐতিহ্যবাহী মেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দূর-দূরান্ত থেকে এসে মানুষ ভির জমাচ্ছেন মেলায়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাংনগর শিবমন্দিরকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর এ মেলার আয়োজন করা হয়। আগে মাসব্যাপী চললেও বর্তমানে কয়েকদিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে সময় কম হলেও মেলার আকর্ষণে কোনো ঘাটতি নেই। এটি বৈশাখী মেলা নামেও পরিচিত।একসময় এই মেলার মূল আকর্ষণ ছিল হরেক রকমের মসলা, হলুদ, রসুন, পেঁয়াজ আর শুকনা মরিচের পাইকারি কেনাবেচা। গ্রামের কৃষকেরা মেলায় ক্ষেতের মসলা বিক্রি করতেন।
এরপর তারা মাটির হাড়িতে রসগোল্লা কিনে বাড়িতে ফিরতেন।মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বড় বড় দেশি-বিদেশি মাছের মেলা। বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা রুই, কাতলা, সিলভার কার্প ও বোয়ালসহ নানা প্রজাতির মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারাও আগ্রহ নিয়ে মাছ কিনছেন।মেলার আয়োজকেরা জানান, প্রায় চারশো বছর ধরে বৈশাখ মাসের প্রথম সোমবার বা বৃহস্পতিবার যে দিনটি আগে আসে, সেই দিনেই বসে গাংনগরের মেলা। এবার বৈশাখ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই মেলা। মেলা উপলক্ষে আশপাশের প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে ঘরে ঘরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। মেলা উপলক্ষে স্বামী-সন্তানেরাসহ আত্নীয়স্বজনরা আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে নিমন্ত্রণ খেতে এসেছেন।শুক্রবার সকালে মেলা ঘুরে দেখা যায়, গাংনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসেছে মেলার মূল অংশ।
তবে মেলার পরিধি ছড়িয়ে পড়েছে গাংনগর বাজারের পুরো এলাকাজুড়ে। মেলায় রয়েছে বাহারি রসগোল্লা আর নানা পদের মিষ্টির পসরা। বড় বড় মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে বড় আকারের মাছ আকৃতির মিষ্টি ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। বড় বড় মাছ আর মাটির হাঁড়িতে রসগোল্লা কিনে মেলা থেকে বাড়িতে ফিরছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা।মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে, খেলনা, কসমেটিকস, গৃহস্থালি পণ্যসহ নানা ধরনের দোকান। এছাড়াও বিনোদনের জন্য রয়েছে সার্কাস, নাগরদোলা, নৌকা দোলনা, মোটরসাইকেল খেলা ইত্যাদি।মেলায় আসা আব্দুল বাকি সরকার বলেন, "ছোটবেলা থেকেই আমি এই মেলায় আসি। প্রতি বছর মেলা থেকে মাছ কিনে নিয়ে যাই। এবারও মেলা থেকে মাছ, মিষ্টি, মসলা ও সজনে ডাটা কিনেছি।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, "গাংনগর মেলা এই অঞ্চলের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য- যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সাথে গভীরভাবে জড়িত। মেলাটি যেন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করা যায় সবার সহযোগিতায় মেলাটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।"
