Joy Jugantor | online newspaper

বাঙ্গালির ঐতিহ্যকে লালন করতে বগুড়া

ওয়াই এমসিএ পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের পিঠা উৎসবের আয়োজন

প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ওয়াই এমসিএ পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের পিঠা উৎসবের আয়োজন

বাঙ্গালির ঐতিহ্যকে লালন করতে বগুড়া ওয়াইএমসিএ পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের পিঠা উৎসবের আয়োজন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ও বাঙালি সংস্কৃতির সাথে আষ্টেপৃষ্টে মিশে আছে পিঠাপুলির নাম। সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে সোমবার দিনব্যাপী এমনই এক পিঠা পুলি উৎসবের আয়োজন করে বগুড়া ওয়াইএমসিএ পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ। পিঠা শুধু একটি খাদ্যই নয়, অনেকের জন্য স্মৃতির ভাণ্ডারও। পিঠা পুলি বাংলাদেশের দীর্ঘকালের পরিচয় বহন করে।

উৎসব-পার্বণে পিঠা একটি অনিবার্য উপাদান হিসেবে আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। বিচিত্র সব পিঠা তৈরি হতো গ্রাম বাংলায় এবং এখনো হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে জীবনযাত্রা বদলে যাওয়া ও নাগরিক ব্যস্ততায় পিঠার সে পুরনো দিন যেন আর নেই। তাই পিঠা শিল্পকে তুলে আনার লক্ষ্যে পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

মেলায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরিচালনায় বিভিন্ন স্টলে প্রায় ৪০ প্রকারের ভিন্ন স্বাদের মুখরোচক পিঠার প্রদর্শন করা হয়। পিঠা উৎসবে আসা অভিভাবকরা জানান, পিঠা উৎসবে এসে বাহারি স্বাদের দেশি পিঠা দেখে খুবই ভালো লাগলো। দেশীয় পিঠার স্বাদকে বাঁচিয়ে রাখতে এ রকম উদ্যোগের প্রয়োজন আছে।

ফিতা কেটে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ওয়াইএমসিএ'স অব বাংলাদেশ এর সহ-সভাপতি ম্যাগডোলিন ফ্রান্সিসকা বেসরা। তিনি বলেন, আধুনিকতা কিংবা প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যেন কখনো আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি হারিয়ে না যায় সেই উদ্দেশ্যেই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিনোদনের ব্যবস্থা করলে শিশুরা লেখাপড়ায় আরো মনোযোগি হবে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ করে যে সৃজনশীল পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রতি বছর এ প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের আয়োজন অব্যাহত রাখতে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ রবার্ট রবিন মারান্ডী বলেন, উৎসবের প্রাণবন্ত পরিবেশ ঐতিহ্যের সুবাস পিঠা উৎসবে শিক্ষার্থী ও অতিথিদের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। গ্রামের দাদী-নানীদের পিঠা তৈরির স্মৃতি মনে পড়ে, পাশাপাশি মায়েরা তার সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করে কখন সন্তানরা ছুটি পাবে, নানা রকমের পিঠা তৈরি করে খাওয়াবে। শহুরে পরিবেশে গ্রামের ঐতিহ্য ফিরে দিয়েছে পিঠা উৎসবের এ আয়োজন। 

উদ্বোধন শেষে অতিথিবৃন্দ পিঠা উৎসবের স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বগুড়া ওয়াইএমসিএ'র সভাপতি মিস অর্পণা প্রামানিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কনসালটেন্ট গোলাম মাহবুব মোর্শেদ, বগুড়া ওয়াইএমসিএ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ভিভিয়ান রিওন মারান্ডী, সংস্থার কার্যনির্বাহী সদস্য মিসেস রেজিনা মারান্ডী,এজিএস হিউবার্ড রিমন মারান্ডী, সহকারী প্রধান শিক্ষক পারভীন আকতার, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা টোনাম সরকারসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এ সময় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আনন্দের ছোঁয়াকে আরো একধাপ এগিয়ে নেয়।