রাণীনগরে আমন ধান রোপন শুরু চারা সংকটের শংকা
চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁর রাণীনগরে শুরু হয়েছে ধান রোপন| ফলে আইল কাটা,হাল চাষ থেকে শুরু করে জমি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন কৃষকরা| তবে ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বেশ কিছু বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চারা সংকটের আশংকা করছেন কৃষকরা| তবে কর্মকর্তারা বলছেন,বীজতলা কিছুটা নষ্ট হলেও চারা সংকটের কোন সম্ভবনা নেই|রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দপ্তর সুত্রে জানাগেছে,চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১৯হাজার ৭০হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে হাইব্রীড,উপসি এবং স্থানীয় জাতের ধান রয়েছে| সুত্র মতে,ধান রোপনে কৃষকরা মোট ৯৫৫হেক্টর জমিতে বীজতলা ˆতরি করেছেন| কৃষকরা বলছেন, বীজতলা ˆতৈরির পর থেকে ভারী বৃষ্টিপাত এবং উত্তরের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে| ফলে চাহিদা অনুযায়ী বীজতলা না হওয়ায় চারা সংকট দেখা দিতে পারে| এতে চরম ক্ষতির মুখে পরবে কৃষকরা|উপজেলার কালীগ্রাম কসবাপাড়া গ্রামের কৃষক আলাউদ্দীন বলেন,এবার মাত্র দুই বিঘা জমিতে ধান রোপন করছি| গতকাল বুধবার শ্রমীকদের নিয়ে মাঠে ধান রোপন শুরু করেছেন।
হরিপুর গ্রামের কৃষক শ্রী চন্দ্র দাস বলেন, এবার ১১বিঘা জমিতে আমন ধান রোপনের জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন| ধান কেটে আলু-সরিষা আবাদ করার জন্য আগাম জাতের ব্রী ধান-৯০,এবং স্বর্ণা-৫ জাতের ধানের বীজ বপন করেছেন। ২/৪দিনের মধ্যেই ধান রোপন শুরু করবেন| কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাতে বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে| ফলে প্রায় ৩বিঘা জমির চারা ঘার্তি পরবে|আবাদপুকুর বাজার পেট্রল পাম্প এলাকার কৃষক ওয়াজ কুরুনি জানান,তিনি এবার প্রায় ৪০বিঘা জমিতে ধান রোপন করবেন| আগামী সপ্তাহ থেকে ধান রোপন শুরু হবে| তবে ধান রোপনে যে পরিমান বীজ বপন করেছিলেন বৃষ্টিতে সেই বীজতলার অনেক ক্ষতি হয়েছে| ফলে প্রায় ৮-১০ বিঘা জমি রোপনে চারা ঘার্তি হবে।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দপ্তরের সুত্র মতে,ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঢলের পানিতে গত কয়েকদিন আগে প্রায় ৪০১বিঘা আউশ ধান এবং ১৬১বিঘা আমন ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত আক্রান্ত হয়েছিল| এতে কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পরেছেন| কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন,চলতি আমন মৌসুমে ধান রোপন শুরু হয়েছে| ইতি মধ্যে বুধবার পর্যন্ত ২৯৮ হেক্টর জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে| আগামী সপ্তাহের মধ্যে পুরো দমে ধান রোপন শুরু হবে| তবে চারা সংকটের আশংকাকে নাকচ করে তিনি বলেন,বৃষ্টিপাত এবং জমি থেকে পানি নেমে কমে যাওয়ায় আক্রান্ত বীজতলা অনেকটায় সেরে ওঠেছে| ফলে সংকটের কোন আশংকা নেই।
