Joy Jugantor | online newspaper

শেরপুরে ফেলে রাখা জমিতে ৫ স্তরের সবজি বাগান,

বদলে গেছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:১৩, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বদলে গেছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র

শেরপুরে ফেলে রাখা জমিতে ৫ স্তরের সবজি বাগান, বদলে গেছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র

একদিকে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, অন্যদিকে সংসারের হাল ধরা বাড়ির আঙিনার পরিত্যক্ত জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে এমনই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বগুড়ার শেরপুরের গ্রামের গ্রামীণ নারীরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষিত হয়ে অবহেলায় পড়ে থাকা জমিকে তারা এখন পরিণত করেছেন সুজলা-সুফলা সবজি বাগানে।উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের আমিনপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামে পা রাখলেই এখন চোখে পড়ে সবুজের সমারোহ। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় ৫টি স্তরে সাজানো হয়েছে সবজি বাগান। সেখানে আলু, পেঁয়াজ, মুলা, গাজর, টমেটো, বেগুন, করলা, বরবটি, লাউ, মরিচ, কলমি শাক, পালং শাক ও ধনিয়াসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির চাষ হচ্ছে। শেরপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) আব্দুল আজিজের সার্বিক সহযোগিতায় এবং পার্টনার ফিল্ড স্কুলের প্রশিক্ষণে গ্রামজুড়ে এই কৃষি বিপ্লব ঘটেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমেই এই পরিবর্তন এসেছে। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষাবাদ করে এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন স্থানীয় নারীরা।নিজেদের সফলতা প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা নাদিয়া আক্তার নেহা ও জাহানারা বেগম বলেন, পার্টনার ফিল্ড স্কুল থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়েছি। আগে বাড়ির আঙিনা পরিত্যক্ত থাকত, এখন সেখানে বেগুন, পেঁয়াজ, মুলাসহ নানা ধরনের বিষমুক্ত সবজি চাষ করছি। এতে নিজেদের খাওয়ার পাশাপাশি গরিব প্রতিবেশীদেরও সহযোগিতা করতে পারছি।তাদের এই সফলতা দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন অন্যরাও। ববিতা খাতুন ও তাসলিমা বেগম নামের দুই গৃহিণী বলেন, বাড়ির আঙিনায় এত সুন্দরভাবে কৃষি আবাদ করা যায়, তা আমাদের জানা ছিল না। আমাদের দেখাদেখি এখন এই গ্রাম তো বটেই, পাশের গ্রামের মানুষরাও পুষ্টিকর সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

পুষ্টির চাহিদার পাশাপাশি এই উদ্যোগে অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মুক্তার হোসেন নামের এক উপকারভোগী বলেন, বাজারে সবজির যে দাম, তাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজের পরিত্যক্ত জমিতে চাষাবাদ করে সংসারের চাহিদা মেটাচ্ছি। উদ্বৃত্ত সবজি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছি।এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) আব্দুল আজিজ বলেন, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে আমরা ২৫ জন কৃষক-কৃষাণীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। বাড়ির আঙিনায় পরিত্যক্ত জায়গা কাজে লাগিয়ে কীভাবে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটানো ও বাড়তি আয় করা যায়, সেটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। প্রশিক্ষণের পর নারীরা নিজেরাই ফসল ফলাচ্ছেন এবং পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছেন।কৃষি বিভাগ আশা করছে, আমিনপুর গ্রামের এই মডেল ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার প্রতিটি বাড়ির আঙিনা হয়ে উঠবে বিষমুক্ত সবজির উৎস, যা জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।