Joy Jugantor | online newspaper

শেষ হলো চলতি মৌসুমের ভ্রমণ, সেন্ট মার্টিন ছেড়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:৩৬, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

শেষ হলো চলতি মৌসুমের ভ্রমণ, সেন্ট মার্টিন ছেড়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ

শেষ হলো চলতি মৌসুমের ভ্রমণ, সেন্ট মার্টিন ছেড়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ

পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্ট মার্টিনে আগামীকাল রোববার থেকে টানা ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকছে। মৌসুমের শেষ দিনে তাই সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজগুলো পর্যটক নিয়ে দ্বীপ থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে এর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে চলতি মৌসুমের পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণ। সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী পর্যটন মৌসুমে পুনরায় পর্যটকরা এই প্রবাল দ্বীপে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।চলতি মৌসুমে সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে এ বছর দ্বীপে বিগত সময়ের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

দ্বীপে ঘুরতে আসা এক পর্যটক কামরুল হাসান বলেন, ‘এবার সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ করে এক ভিন্ন ও আনন্দময় অভিজ্ঞতা হয়েছে। পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত থাকায় দ্বীপের পরিবেশ ছিল শান্ত, পরিচ্ছন্ন ও স্বস্তিদায়ক। অতিরিক্ত ভিড় না থাকায় নীল সমুদ্র, প্রবালপাথর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছি।’তিনি আরও বলেন, ‘রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকায় দিনের পাশাপাশি রাতের সেন্টমার্টিনকেও অনুভব করতে পেরেছি। রাতে সমুদ্রের কলকল ধ্বনি, নির্মল আকাশ আর নীরব পরিবেশ ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। পরিবার নিয়ে নিরাপদ ও নির্ভারভাবে সময় কাটাতে পেরেছি।’

স্থানীয় এক পর্যটন ব্যবসায়ী সরওয়ার কামাল বলেন, পর্যটক কম হওয়ায় চলতি মৌসুমে ব্যবসায়িকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে পারেননি। এমনকি সামগ্রিক খরচও পোষাতে হিমশিম খেয়েছেন। তবে কেউ কেউ কোনো রকমে খরচ তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা আমরাও চাই। তবে সেই সঙ্গে পর্যটন ব্যবসায়ী ও পর্যটন নির্ভর দ্বীপবাসীর ক্ষতি যেন না হয়, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি পর্যটন নির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টি মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, চলতি পর্যটন মৌসুমের ডিসেম্বর-জানুয়ারি এ দুই মাসে সেন্টমার্টিনে পযর্টকদের ভ্রমণ শেষ হলো। কিন্তু এই দুই মাসে দ্বীপে পর্যটকের সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। ফলে পর্যটননির্ভর মানুষজন তেমন লাভবান হতে পারেননি। অনেক ব্যবসায়ী তাদের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে হিমশিম খেয়েছেন। কেউ কেউ কোনোমতে ব্যবসার খরচ তুলতে পারলেও সামগ্রিকভাবে এ মৌসুমটি দ্বীপবাসীর জন্য আশানুরূপ হয়নি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সরকারের বিধিনিষেধ ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণের শেষ সময় ছিল ৩১ জানুয়ারি। নির্ধারিত সময়ের পর দ্বীপে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যর ভারসাম্য বজায় রাখা যায়। এ সময়ের মধ্যে সেন্ট মার্টিনে অবস্থানরত সব পর্যটক নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছেন।