আপাতত সুদ কমাচ্ছে না ফেড, ডলার ও সোনার দর বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারা নীতি সুদহার কমানোর বিষয়ে এখনো একমত হননি। তবে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আপাতত ফেড সুদহার কমানোর প্রক্রিয়ায় বিরতি রাখতে চাইছে।বাজারের প্রত্যাশা অনুযায়ী, যদি মূল্যস্ফীতি ধীরে হলেও কমতে শুরু করে, বছরের শেষ দিকে নীতি সুদহার আবার কমানো হতে পারে। তবে বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়ালের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তাৎক্ষণিক কোনো হ্রাসের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। খবর সিএনবিসি ও রয়টার্সের।এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দাম আবার বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ার খবর এবং সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ডলারের প্রাপ্যতা বাড়িয়েছে। মার্কিন বন্ডের সুদহারের বৃদ্ধি ইউরো ও ইয়েনের তুলনায় ডলারের অবস্থান মজবুত করেছে। ইউরো এখন ১ দশমিক ১৮ ডলারের নিচে ঘোরাফেরা করছে। সেই সঙ্গে সোনার দামও বেড়েছে।
মার্কিন অর্থনীতির সাম্প্রতিক তথ্যও ডলারের দামকে সহায়তা করেছে। জানুয়ারি মাসে শিল্প উৎপাদন ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে; বিনিয়োগ ও আবাসন খাতেও উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।মুদ্রাবাজারে ইউরো ও ইয়েনের তুলনায় ডলার শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। প্রতি ইউরোর বিপরীতে ১.১৭৯০ ডলার পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৫৫.২৫ ইয়েন লেনদেন হচ্ছে।ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির ২৭-২৮ জানুয়ারির বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, নীতি সুদ অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে বেশিরভাগ সদস্য একমত হলেও ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এক পক্ষ মূল্যস্ফীতিকে বড় ঝুঁকি মনে করছে, অন্যরা শ্রমবাজারে প্রণোদনা দেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশামতো কমলে ভবিষ্যতে ফেডারেল ফান্ডস রেট আরও কমানো হতে পারে। তবে কিছু সদস্য মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি নিশ্চিতভাবে কমছে কিনা তা স্পষ্ট না হলে সুদহার স্থির রাখাই ভালো। কেউ কেউ বলেছেন, প্রয়োজন হলে সুদহার বাড়ানোর পথও খোলা রাখা উচিত।গত সেপ্টেম্বরে, অক্টোবর ও ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে নীতি সুদহার মোট ০.৭৫ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়েছে। বর্তমানে সুদহার ৩.৫ থেকে ৩.৭৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছে, যার কারণে বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন সুদহার আরও হ্রাস পেতে পারে।
কার্যবিবরণীতে ব্যক্তিগত নাম না উল্লেখ করে ‘কিছু’, ‘অনেকে’, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অধিকাংশ সদস্য মনে করছেন, চলতি বছরে মূল্যস্ফীতি কমবে, তবে সময় ও গতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। শুল্কের কারণে মূল্য চাপ বাড়লেও তা সময়ের সঙ্গে কমতে পারে। মূল্যস্ফীতি দীর্ঘমেয়াদি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার উপরে থাকতে পারে—এটি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।এদিকে, টানা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। প্রতিবেদনের সময় অনুযায়ী, সোনার দাম ৩৩ ডলারের বেশি বেড়ে ৫,০১৯ ডলারে পৌঁছেছে।সাধারণত অনিশ্চয়তার সময়ে সোনার দাম বৃদ্ধি পায়। সাধারণত সোনা ও ডলারের দাম বিপরীতমুখী থাকে—একটি বাড়লে অন্যটি কমে। তবে বর্তমানে দুটোই একসঙ্গে বাড়ছে।
