Joy Jugantor | online newspaper

যমুনায় জেগে ওঠা চরে স্বপ্নের লড়াই

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:২২, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যমুনায় জেগে ওঠা চরে স্বপ্নের লড়াই

যমুনায় জেগে ওঠা চরে স্বপ্নের লড়াই

যমুনার জেগে ওঠা চরে এখন সবুজের সমারোহ। উর্বর পলিমাটিযুক্ত জমিতে সোনালি দিনের স্বপ্ন বুনছেন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ। নানা ফসলের আবাদে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ যেন এক নীরব কৃষি বিপ্লব। যমুনার চর এখন স্বপ্নের লড়াইয়ের প্রতীক।একদিকে ভাঙন, অন্যদিকে জেগে উঠছে নতুন চর। প্রবাহমান যমুনা নদীর ভাঙা-গড়ার মাঝেই যুদ্ধ করে বাঁচতে হয় নদীপাড়ের মানুষদের। একসময় যমুনায় জেগে ওঠা চরের বিস্তীর্ণ জমি বছরের পর বছর পতিত পড়ে ছিল। এখন সে চিত্র আর নেই। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে কোনো জমিই আর পতিত পড়ে থাকে না। নদীভাঙনে বসতভিটা হারানো মানুষ নতুন জেগে ওঠা চরে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন বুনছেন। তাদের কঠোর শ্রমে সেই জমিতে এখন ‘সোনা’ ফলছে।

স্থানীয়রা জানান, ভাঙা-গড়ার খেলায় প্রায় ২০ বছর ধরে যমুনার চর জেগে উঠছে। প্রতি বছরই একটু একটু করে বাড়ছে চরের পরিধি। নদীর উভয় পাড়ের অনেক পরিবার সময়ের প্রয়োজনে ও জীবিকার তাগিদে নতুন জেগে ওঠা চরে ঘর বেঁধেছেন। ধীরে ধীরে বাড়ছে জনবসতি। ফলে একসময়ের অনাবাদী এ চরে বর্তমানে ধান, পাট, ভুট্টা, মরিচ, গম, মসুর, খেসারি, ছোলা, চীনাবাদাম, মিষ্টি আলু, পেঁয়াজ, রসুন, তিল, তিসি, কালোজিরা, আখ ও মাসকলাইসহ নানা ফসলের আবাদ চলছে। এ যেন বালুচরে শস্যবিপ্লব। জেগে ওঠা এ চরে নদীভাঙনে সর্বহারা মানুষ গড়েছেন সম্ভাবনার নতুন সংসার।সাপধরী ইউনিয়নের কাশারী ডোবা গ্রামের ছকিনা বেগম বলেন, “বাপদাদার বসতবাড়ি প্রায় ৪৫ বছর আগে নদীতে ভেঙে যাওয়ায় আমরা পাশের জেলায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম। অনেক কষ্ট করে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। আবার আমাদের জমিগুলো জেগে ওঠায় নতুন করে ঘরবাড়ি করেছি।”

ষাটোর্ধ্ব কৃষক আহেদ আলী বলেন, “বর্ষা মৌসুমে এ চর পানির নিচে থাকে। বালুমাটির ওপর পলি পড়ে, ফলে ফলন অনেক ভালো হয়। বর্তমানে এই জমি আবাদ করেই আমরা বেঁচে আছি।”আব্দুল্লাহ শেখ নামের আরেক কৃষক জানান, “বাপদাদার ভিটায় আবার মাটি কেটে উঁচু করে বাড়িঘর বানিয়েছি। জমি এক ফসলি, তার মধ্যে পাঁচ মাস বন্যার পানি থাকে। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পলিমাটিতেই আবাদ করি। পলিমাটি সার হিসেবে কাজ করে, এতে খরচ অনেক কম হয়।”

কৃষকদের অভিযোগ, নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে বিভিন্ন শস্যের আবাদ হলেও তাদের খোঁজ নেওয়ার মতো সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার দেখা মেলে না। নিজেদের চেষ্টাতেই তারা আবাদ করছেন। তাদের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে কৃষি বিভাগ যদি গভীর নলকূপ বা অন্য কোনো উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করে, তাহলে এখানকার চাষাবাদে আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, চরাঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। ওই এলাকার কৃষকরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছেন। স্থানীয় মাঠকর্মীরা দুর্গম চরাঞ্চলে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তবে আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে এ এলাকার উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।