Joy Jugantor | online newspaper

চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ

প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম গ্রেফতার

বগুড়া প্রতি‌নি‌ধি

প্রকাশিত: ২০:১৩, ১২ এপ্রিল ২০২৬

প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম গ্রেফতার

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মথুরাপাড়া বালি

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মথুরাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে শনিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করেছে সাঘাটা থানা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্ব অনন্তপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের দায়ের করা একটি মামলায় (মামলা নম্বর: ১১৮/২৫) জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর শনিবার রাতেই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে রোববার গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদীর ছেলে রবিউল ইসলামকে মথুরাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘ল্যাব সহকারী’ পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন জাহিদুল ইসলাম। এ প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তিনি আফজাল হোসেনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও রবিউল ইসলামকে চাকরি না দিয়ে কৌশলে নিজের ছেলেকে ওই পদে নিয়োগ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার তাদের টাকা ফেরত চাইলে জাহিদুল ইসলাম নানা টালবাহানা শুরু করেন। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও টাকা উদ্ধার করতে না পেরে ২০২৫ সালে আদালতের আশ্রয় নেন আফজাল হোসেন। সেই মামলার ভিত্তিতেই অবশেষে আইনের আওতায় আসেন এই প্রধান শিক্ষক।আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু এই একটি নয়, আরও একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, অন্তত ১০ জনের কাছ থেকে তিনি কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এবং আরও অনেকে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।সাঘাটা থানা পুলিশ জানিয়েছে, জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রতারণার শিকার অন্যান্য ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।