ডাঃ মোঃ রমজান সরকার (সাজ্জাদ সাঈফ)
হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ বিএনপি জামাত এবি পার্টি ছাত্র জনতার আন্দোলনকে এক দফায় উর্ত্তীর্ণ করতে একযোগে রাজপথে লড়েছে, রক্ত দিয়েছে-ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদতখন কেবল আগস্টের ফ্যাসিস্ট পতন পরবর্তী টালমাটাল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনীতি। অন্যান্যদের মত ব্যারিস্টার ফুয়াদও রাজনীতির মাঠে এন্টি আওয়ামী সেন্টিমেন্ট বা আওয়ামী লীগের গণহত্যাবিরোধী যুক্তিসংগত কথাবার্তার মাধ্যমে সভা সেমিনার টক শোতে ঝড় তুলছেন। মাত্র ১৯/২০ মাস আগের কথা। উপরে উল্লেখ্য বক্তব্য তিনি বহুবার রিপিট করেছেন। এক পর্যায়ে জুলাইয়ে সর্বাধিক রক্তাক্ত রাজনৈতিক দল বিএনপির সাথে কোনোভাবে ১৯৭১ ইস্যু ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে মতানৈক্য হবার পর রাতারাতি তিনি হয়ে গেলেন বিএনপির কট্টর সমালোচক। আসুন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার উত্থানপর্বটা খেয়াল করি। তিনি মূলত জামায়াত নেতা ছিলেন।
ফ্যাসিস্ট স্বর্ণযুগে যখন জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্থ সময় পার করছে ঠিক তখনই তিনি শেখ হাসিনার টোপ গিলে এমপি হবার বাসনায় জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক প্রতিপক্ষ হিসাবে নিজেকে উপস্থাপন করলেন এবং জামায়াত যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কারণে নির্যাতনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পর্যুদস্ত তখন গড়লেন এবি পার্টি যার চূড়ান্ত লক্ষ্য'র মধ্যে ইসলামের অবস্থানকে নেগোসিয়েশন সুলভ করলেন আওয়ামী কৃপায় নিবন্ধিত হয়ে নির্বাচনে যাবার উদ্দেশ্যে। মানে শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য নিজের আদর্শই বিক্রি করে দিলেন। সেই ব্যারিস্টার সাহেব কিন্তু এখন জামায়াতের এলাই।
এবং এও দিবালোকের মত পরিস্কার যে তিনি সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের আগ অব্দি নিজের অবস্থানকে বিএনপিপ্রীতি হতে কট্টর বিএনপিবিরোধিতায় প্রতিস্থাপন করে গেলেন শুধুমাত্র ছাত্রজনতার কাতারে থেকে জুলাইকে অস্ত্র বানিয়ে ভোটার সমর্থন ধরে রাখার লোভে।এখন একই ব্যক্তি যখন ভোটে নির্মমভাবে পরাজিত হয়ে দেখলেন লক্ষ্য অর্জিত হলো না তখন তিনি আগের চেয়ে সহস্রগুণ উদ্যম নিয়ে বিএনপির চরিত্রহনন শুরু করলেন মানে ভাগ না পাইয়া প্রলাপ বকার রাস্তায় অগ্রসর হলেন।
'বিএনপি যখন জুলাইয়ের আয়নায় তাকায় তখন শুধুমাত্র জামাত এবি পার্টি এনসিপির ছাত্রনেতা ও ছাত্রজনতাকে দেখে কিন্তু বিএনপিকে খুঁজে পায় না, জুলাই অভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকাই ছিলো না, আর এতেই বিএনপি হীনমন্যতায় ভুগছে'জুলাইয়ে গণমানুষের রক্তের দাগই এখনো শুকায় নাই কিন্তু আওয়ামী লীগ যেমন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি কইরা ৭১ পরবর্তী মুজিব সরকার হতে ২৪ অব্দি হাসিনা সরকার অব্দি ফ্যাসিজম বহাল রাখছিল তেমনি ফুয়াদ সাহেব তার এলাইদের নিয়ে সেই ৫ আগস্ট হতেই জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করতে করতে আজকে চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে ফেললেন, যেই ব্যক্তি নিজের মূল আদর্শের দল জামায়াতের সবচেয়ে খারাপ সময়ে দলত্যাগ করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পাতানো নির্বাচনে এমপি হবার জন্য আদর্শকেই জলাঞ্জলি দিয়ে নতুন দল করছিলেন সেই একই ব্যক্তি দেড় বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে বিএনপির ত্যাগ তিতিক্ষাকে স্রেফ অস্বীকার করে সম্পূর্ণ মিথ্যা বয়ান উৎপাদন করে নতুন করে যে এলাই ও জুলাই প্রজন্মকে ধোকার রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছেন এই সত্য বুঝতে বড় বুদ্ধিজীবী হইতে হয় না।
তিনি একই বক্তব্যে চটকদার কৌশলে বলেছেন-আমি আর শিশির(শিশির মনির) সরকারকে(প্রকারান্তরে বিএনপির মন্ত্রীদের) চ্যালেঞ্জ করলাম অন কন্সটিটিউশন, সাহস থাকলে ডাকসুতে আসেন।এই যে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করবার আওয়ামী অপকৌশল তিনি অবলম্বন করতেছেন তিনি কি জানেন যে বিএনপি তার মত(/বরঞ্চ তার চেয়ে সৎ দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী) অসংখ্য ব্যারিস্টারের ওপর সুদীর্ঘকালের আওয়ামী নির্যাতনের অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ একটি জনসংশ্লিষ্ট দল? তিনি কি প্রমাণ করতে পারবেন বিএনপির একেকজন নেতাকর্মীর চেয়ে তিনি অধিকতর নির্যাতনের শিকার হইছেন ফ্যাসিস্ট আমলে? তিনি কি তার দলের একজন বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষকে দেখাতে পারবেন যে বা যারা আওয়ামী সুবিধা নিবার টোপ না গিলে প্রকাশ্যে অসংখ্য প্রকারে নির্যাতনের মুখে ১৭টি বছর আওয়ামী ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে মেরুদণ্ড সোজা রেখে কথা বলে গেছেন বা লিখে গেছেন? পারবেন না, কিন্তু বিএনপি তার অসংখ্য আদর্শচ্যুতির ইতিহাস জুলাইপ্রজন্মকে নির্বিঘ্নে জানাতে পারবে তবুও কিন্তু বিএনপি তার এইসব মিথ্যা দম্ভোক্তি নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয় আর এর কারণটা রাজনৈতিক সততা ও জনসংশ্লিষ্টতা।
বিএনপির জন্ম নিয়েও তিনি যে মিথ্যা ন্যারেটিভ ছড়ান এখন তাও যে মিথ্যাচার সচেতন দেশবাসী তা জানে বলেই যে কোনো জাতীয় সংকট হতে দেশকে উত্তরণে দেশবাসী বারবার বিএনপিকেই দেশের দায়িত্ব অর্পন করেছে আজ অব্দি, বিএনপি বন্দুকের নলে বা বিদেশি বলে জন্মায় নাই বরং দেশের চূড়ান্ত রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে সিপাহী জনতার বিপ্লবই বিএনপির উত্থানকে ইতিহাসে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল। একটা বিদেশী চক্রান্তে দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র যখন ভিন্ন দেশের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে চলে যাবার উপক্রম হইছিল ঠিক তখন দেশের অকুতোভয় জনতা সিপাহীদের সাথে নিয়ে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ভাগ্যের সুরক্ষার দায়িত্বে শ্রেষ্ঠতম উপযুক্ত নেতা হিসাবে বেছে নিয়েছিল যার ধারাবাহিকতায় বিএনপির মতন সকল ধর্মমতসহিষ্ণু উদার গণতান্ত্রিক দলটির জন্ম হইছিল আর মূলত ফুয়াদ সাহেবের মত নিজ আদর্শের সাথে বেঈমানি করে বাকশালি নির্বাচনের টোপ গেলার মত কলংকিত জন্মেতিহাস নিয়া অন্যের পিছনে আঙুল দিয়া রাখা বড় বড় নীতিকথায় প্রজন্মকে ধোঁকা দিবার মত হীনমন্য দল যে বিএনপি নয় সেইটা বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭৬ সাল হতেই জানে।
উপরন্তু এই মুহূর্তে আওয়ামী স্টাইলে জুলাই প্রজন্মকে জুলাই চেতনা দিয়া পকেটে রাখার অপচেষ্টা ছাড়া ফুয়াদ সাহেবের রাজনীতির বিশেষত্ব আদতেই নাই। যার চরিত্রই আদর্শ বিক্রি করে চলার তার আসলে যোগ্যতাই নাই বিএনপির সমালোচনার। হ্যাঁ বিএনপি যে কোনো গনবিরোধী কাজে জড়ালে বিএনপিরই অসংখ্য নেতাকর্মীর সৎ দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়বে এবং এর ইতিহাসও সবার অজানা নয়। যখন কেউ নিজেকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ধরে নেয় তখনই কেবল সে প্রকাশ্যে এইভাবে অবিবেচনাপ্রসূত চ্যালেঞ্জের সুরে কথাবার্তা শুরু করে থাকে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে 'জুলাই আবার হবে' জাতীয় দিবাস্বপ্ন দেখা ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়ে গল্পটি এখানেই ফুরালো, নটেগাছটিও মুড়ালো!
-
